সাংবাদিক নিয়োগঃ
আজকের নোয়াখালী শিক্ষানবীশ সাংবাদিক নিয়োগ - আগ্রহীরা সিভি পাঠিয়ে দিন আমাদের মেইলঃ ajkernoakhali2019@gmail.com এ
ভালোবাসা রঙ বদলায়!

ভালোবাসা রঙ বদলায়!

স্বপ্নের মাঝে কল্পনার বসবাস। আর কল্পকাহিনী থেকেই স্বপ্নের স্বপ্নিল যাত্রা। বলা হয়ে থাকে মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়।
মানুষ আশা নিয়েই বেঁচে থাকে।

সবারই কল্পনার জগতে একটি স্বপ্নের সিড়ি থাকে। যেটা বেয়ে সে তার গন্তব্যে যেতে চায়।

আকাশটা তখন বিদগ্ধ অন্ধকার প্রায়। থেমে থেমে বিজলী চমকাচ্ছে। দমকা বাতাস আর গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি কালবৈশাখের আবাস দিয়েই যাচ্ছে। কিছুক্ষন পরেই মুশলধারায় বৃষ্টি শুরু হবে হয়তো। সময়টা সেদিন বিকেলের আবছা অন্ধকারে।

ডাটা অফ করে মোবাইলের স্ক্রিন থেকে চোখ সরাতে গিয়েই থেমে গেলাম। একটা রিকুয়েস্ট আসছে। আইডিটা অন্য সব আইডি থেকে একটু আলাদা মনে হওয়ায় নক দিলাম।
আমার সম্বোধন ছিল অনেকটা এরকম যে, ফেইক আইডি মনে হলে সাথে সাথেই রিকুয়েস্ট ক্যান্সেল করে দেব। কুশল বিনিময় হওয়ার পর তখনও শিওর ছিলাম না এটা আদৌ কোন মেয়ের রিয়েল আইডি কি না!

ধীরে ধীরে কথার জাল বুনতে শুরু করলাম। নেটে আসলে তার সাথেই ( নতুন রিকুয়েস্ট পাঠানো আইডির মানুষটির সাথে। আইডির নাম বলবোনা, নাম বল্লে চাকরি থাকবেনা😂) বেশি সময় কন্ট্রাক্ট হত তখন।

মানুষ ভুল করে সুখ খুজে, সুখের পেছনে দৌড়িয়ে অসুখে ভুগে। আমার অবস্থা অনেকটা সেরকমই হয়েছে। নিষিদ্ধ জিনিসের প্রতি মানুষের আকর্ষণ বরাবরই থাকে। মেয়েরা ছলনা করে, বেরসিক ছেলেদের অপছন্দ করে এসব মেয়েদেরই ভালো মানায়।

ওর নাম লিমা (ধার করা নাম)। ১ম দিনেই কথা বলার মাঝে বেশ কয়েকটা ছবি দিয়ে দিল। যদিও আমি চাইনি। আমি যেন ওকে সন্দেহ না করি সেজন্য। মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি পাওয়ার মত অবস্থা!

সন্দেহ টা কমে যাচ্ছিল দিনদিন। আমিই নিজ থেকে তখন মেসেজ দিতাম। কথা শুরু হলে আর থামতে ইচ্ছা করতোনা।
না ওর, না আমার!

ও শুনাতো সন্ধা তারা আর শুকতারার গল্প। আমি শুনাতাম স্বপ্ন ভাঙ্গার কষ্ট আর ভালোবাসার গল্প। যদিও নিষিদ্ধ পল্লীতে এসব গল্প মানাতো না।

দিন যায়, দিন আসে। আমাদের মাঝেও খুনশুটি হয়। তবে, সেটা অনলাইনে। ঝগড়া হয়, অনেক কিছু শেয়ারও হয়। সময় সুযোগ ফেলেই ও গিরগিটির মত রঙ বদলায়। আমি তখন স্বাভাবিক থাকি, জানি মনে ভালোবাসা থাকলে এরকম রঙ বদলানো অস্বাভাবিক কিছুইনা। ভালোবাসা রঙ বদলায়। আমাদের মাঝে কতকিছু ই তো হয়। একসাথে হাসাও হতো। সবই হয় শুধু দুজনের ভেতরের কথাটি মুখ থেকে বের হয়না।

ছোট বেলায় শুনতাম, প্রেম ভালোবাসা নাকি স্বর্গীয় ব্যাপার। এবং সৃষ্টিকর্তা ভাগ্যবানদের এটা দান করেন। তখন থেকেই খেয়াল করতাম প্রেমিক-প্রেমিকাদের হাত,পা, চোখ আমার মতই সমান সমান। পার্থক্য তাহলে কপালে? ওদের কপাল বড় আর আমারটা ছোট। কিন্তু আমারটাও আমার হাতের চার আঙ্গুল!
তার মানে আমার কপালেও প্রেম আসবে হয়তো কোন একদিন।

অপেক্ষার প্রহর গুনছি। জীবনের ১ম প্রেমটা নাকি বেশিরভাগ সময় ভুল মানুষের সাথে হয়! আর ২য় প্রেমটা হয় সঠিক মানুষের সাথে তবে ভুল সময়ে। এসব ভাবনাতেই মানায়। নিজেদের মধ্যে বুঝাপড়ার অভাব থাকলে এরকম হাজারটা ২য় প্রেম করলেও সঠিক মানুষ খুজে পাওয়া যাবেনা। ভালোবাসতে হলে সেক্রিফাইস করতে হয়। এসব ভেবেই বয়সটা পার করে এসেছি। কিন্তু রাজকন্যা ধরা দেয়নি আজ অব্দি।

সম্প্রতি পরিচয় হওয়া লিমা নামের মেয়েটা কে নিয়ে ভাবনা শুরু। সৃষ্টিকর্তা হয়তো মেয়েদের মন বুঝার ক্ষমতা আমাকে দেননি।
তারপরও মেনে নিয়েই চলি সবসময়। কিন্তু আর কত?
ভালই তো লাগে ওকে।
আমি চাই, ও নিজ থেকে ওর ভালোলাগার কথাটি আমাকে জানাবে। শুধু এই দায়িত্ব টা ও নিতে পারলে বাকী সব দায়িত্ব না হয় আমিই নেব।

একটা অকাল প্রেমে পড়ার অপেক্ষায় এতটা টা বছর কেটে গেলো। খবর রাখে নি শরৎতের বিলাসী থেকে সুনীলের বরুণা।
কেউ রাখে নি। আসলে কেউ রাখে না। উড়ো চিঠিতে লিমাকে একদিন জানিয়ে দেবো, হৃদয়ে এখনো প্রেম আছে। শুণ্যতা পূর্ণতায় রুপ নিয়েছে, শুধু মানবীটা বদলেছে।।

প্রতিক্ষায় আছি……সুদিন আসবে। আবার একসাথে হাসবো।
(কাল্পনিক)

@Sajjad zobayer
নোবিপ্রবি প্রতিনিধি।

শেয়ার করুন