সাংবাদিক নিয়োগঃ
আজকের নোয়াখালী শিক্ষানবীশ সাংবাদিক নিয়োগ - আগ্রহীরা সিভি পাঠিয়ে দিন আমাদের মেইলঃ ajkernoakhali2019@gmail.com এ
বস্তনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনই টিকিয়ে রাখতে পারে “মহান পেশা-সাংবাদিকতা”

বস্তনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনই টিকিয়ে রাখতে পারে “মহান পেশা-সাংবাদিকতা”

 

দারিদ্র দূরীকরণ, সর্বজনীন শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন, শিশু ও মাতৃত্ব পরিসেবা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন সহ সার্বিক স্থিতিশীলতা অর্জনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল হয়ে বহির্বিশ্বে ডিজিটাল বাংলাদেশ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধে জয়ী এ জাতি রাষ্ট্রীয় জীবনের সকল ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করে আজকের এই অবস্থানে বাংলাদেশ। কিন্ত অত্যন্ত দুঃখ এবং পরিতাপের বিষয় হল দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় গণমাধ্যম এবং সাংবাদিকদের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অর্জন সাংবাদিকতার তাৎপর্যতা এবং গাম্ভীর্যতা প্রায় বিলীন হওয়ার পথে। গণমাধ্যম কর্মীদের তিল তিল করে গড়ে তোলা এ অর্জন ডিজিটাল বাংলাদেশে এসে অপসাংবাদিকতার কাছে বিলীন হবে তা কোনো ভাবেই মেনে নেয়া যায়না। সাংবাদিকতা এবং গণমাধ্যমের ইতিহাসে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সংস্থা বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতারের পরেই ব্যক্তিমালিকানাধীন বিভিন্ন খবরের কাগজ যার নাম প্রিন্ট মিডিয়া, এর পরেই ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া খ্যাত ব্যক্তিমালিকানাধীন টেলিভিশন চ্যানেল। সর্বশেষ ইতোমধ্যে যুক্ত হলো অনলাইন মিডিয়া।

ডিজিটাল বাংলাদেশে ধাপে ধাপে সংবাদ সংস্থার প্রসার ঘটলেও কেন জানি দিন দিন সংবাদ এবং সংবাদকর্মীরা গণমানুষের কাছে নিজেদের তাৎপর্যতা হারাচ্ছে। বিষয়টি বড়ই বেদনাদায়ক। কে কিভাবে নিবে জানিনা, তবে বর্তমান সংবাদ এবং সংবাদকর্মীদের তাৎপর্যতা হারানোর মুলেই হলো শিক্ষা, পেশাদারি দক্ষতা, নিরপেক্ষতা ও দেশপ্রেমের অভাব। কারণ বর্তমান সময়ের কিছু সংবাদ মাধ্যম নিজেদের ক্ষুদ্র স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য বৃহৎ স্বার্থ জলাঞ্জলী দিয়ে অশিক্ষিত, অদক্ষ এবং স্বার্থলোভী লোকদেরকে সাংবাদিকতার কার্ড ধরিয়ে দিচ্ছে। আর এ কার্ডকে পুঁজি করে এ সকল অদক্ষ সংবাদকর্মীগুলো অন্যায়, অবিচার, দুর্নীতি-সন্ত্রাস ইত্যাদির বিরুদ্ধে নিজেদের হীনস্বার্থ রক্ষায় বন্দী হয়ে সঠিক তথ্যকে কবর দিয়ে মিথ্যা, ভুয়া এবং অসংগতিপূর্ণ তথ্য দিয়ে সংবাদ পরিবেশন করছে। যার ফলে সংবাদ এবং সংবাদকর্মীদের প্রতি সাধারণ জনগণ আস্থা রাখতে পারছেনা।

এ দুরুহ অবস্থা থেকে দেশ এবং জাতিকে এবং দেশের অন্যতম শাখা গনমাধ্যমকে রক্ষা করতে হলে রাষ্ট্রকেই দায়িত্ব নিতে হবে। আর সে দায়িত্ব হবে যেন তেন ভাবে ব্যাঙের ছাতার মত প্রিন্ট মিডিয়া, ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া এবং অনলাইন মিডিয়া যেন গড়ে ওঠতে না পারে। পাশাপাশি আমরা যারা গণমাধ্যম এবং সংবাদ নিয়ে মাঠে কাজ করি আমাদেরকে সুসাংবাদিকতা দিয়ে পেশাদারি দক্ষতা, নিরপেক্ষতা, দেশপ্রেম আর গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ধারণ করে সততা ও সাহস দিয়ে কোনো চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে অন্যায়, অবিচার, দুর্ণীতি, সন্ত্রাস, মাদক ইত্যাদির বিরুদ্ধে সঠিক এবং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন করতে হবে। চাই সেটা হোক পত্রিকা, টেলিভিশন কিংবা অনলাইন মাধ্যমে। আশা করি যোগ্য এবং সচেতন সাংবাদিকরাই “সাংবাদিকতা” নামক এই মহান পেশাকে জাতীয় কর্ম হিসেবে টিকিয়ে রাখবে ।

 

লেখক- মোজাম্মেল হোসেন, নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি (দৈনিক করতোয়া)

শেয়ার করুন