সাংবাদিক নিয়োগঃ
আজকের নোয়াখালী শিক্ষানবীশ সাংবাদিক নিয়োগ - আগ্রহীরা সিভি পাঠিয়ে দিন আমাদের মেইলঃ ajkernoakhali2019@gmail.com এ
প্রশাসনের বেখেয়ালিপনায় নোবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা বাস সংকট ও যানজটের শিকার

প্রশাসনের বেখেয়ালিপনায় নোবিপ্রবি শিক্ষার্থীরা বাস সংকট ও যানজটের শিকার

নোয়াখালী জেলা শহর থেকে মাত্র ৮ কি.মি. দক্ষিণে এই অঞ্চলের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৭০ ভাগ শিক্ষার্থীকে ( অনাবাসিক) শহর থেকে যাতায়াত করতে হয়।

শহর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুরত্ব আট(০৮) কি.মি. অথচ এই স্বল্প পথটি পাড়ি দিতে সময় গুনতে হয় প্রায় পৌনে এক ঘন্টা (৪০-৫০ মিনিট)। বিস্ময়কর ব্যাপার হলো, শুধুমাত্র সোনাপুর বাজারে প্রায় ১০০ মিটার পথ পার হতে সময় লাগে ২০/২৫ মিনিট।

প্রতিদিনের এই দূর্ভোগের শিকার নোবিপ্রবির শিক্ষকমন্ডলী, কয়েক হাজার শিক্ষার্থী,কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ। এই অসহনীয় যানজটের নেপথ্যে রয়েছে রাস্তার উপর বাস, সিএনজি এবং ইজিবাইকের অবৈধ স্যান্ড। দক্ষিণ সোনাপুরের অটো-স্যান্ড সরু রাস্তার অর্ধেকেরও বেশি জায়গা দখন করে রাখে। রাস্তার উপরেই অটোর পার্কিং করা হচ্ছে। জিরো পয়েন্টে সিএনজি, রেলস্টেশন এর পশ্চিমে রাস্তায় সুগন্ধা বাস সহ অন্যান্ন বাসের পার্কিং যানজটের প্রধান কারন।

একদিকে ক্যাম্পাসের বাস সংকট, অন্যদিকে এই অসহনীয় জ্যাম অস্বস্হিকর পরিস্থিতি তৈরী করে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সোনাপুর রুটের অবস্থান বিবেচনা করলে ( রাস্তা সরু এবং খাদযুক্ত) প্রয়োজনের অতিরিক্ত শিক্ষার্থী উঠার ফলে যেকোন মুহূর্তে দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা থেকেই যায়।

বিআরটিসি’র নির্দেশনা-১. বাস চলন্ত অবস্থা গেটে ও সিড়িতে দাড়ানো নিষেধ, ২. চলন্ত অবস্থায় দুর্ঘটনা রোধ কল্পে হাত,মাথাসহ বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গ বাইরে রাখা নিষেধ, ৩. চলন্ত অবস্থায় দরজা ও বাম্পারে ঝুলন্ত অবস্থায় যাতায়াত করা নিষেধ রয়েছে। দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে, নোবিপ্রবির সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিআরটিসি কতৃপক্ষের এই নিষেধাজ্ঞা চাইলেও মেনে চলতে পারেনা। এর একটাই কারন, বাস সংকট। শিক্ষার্থী বাড়লেও আনুপাতিক হারে বাসের সংখ্যা বাড়ায়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

অভিযোগ রয়েছে বাস কন্ট্রোলার অফিসের (পরিবহণ শাখা) বিরুদ্ধে। বেশ কয়েকটি ডিপার্টমেন্টের একযোগে ক্লাস শেষ হলে যখন শিক্ষার্থীদের ভীড় বেড়ে যায়, তখনও পরিবহণ শাখা বাস চালকদের খালি বাস ছাড়ার অনুমতি দেয়না। সীমিত বাসে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী উঠার কারনে বিআরটিসি কতৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও সেই বিআরটিসি বাসের বাম্পার ধরে ঝুলে, সিড়িতে দাড়িয়ে যেতে দেখা যায়। বাসে দাড়ানোরও জায়গা না পেয়ে অনেকে সিএনজি, অটোযোগে যাতায়াত করেন। যদিও অনাবাসিক শিক্ষার্থী হিসেবে প্রতিমাসে তাদেরকে বাস ভাড়া দিতে হয়। শিক্ষার্থীদের ভাষ্যমতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের এই অভিযোগ আমলে নিচ্ছেন না।

নোবিপ্রবি প্রশাসন কে খুব দ্রুত স্থানীয় প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে এই আশু সমস্যার সমাধান করতে হবে। প্রয়োজনে রাস্তার উপর স্থাপিত অবৈধ সিএনজি, অটো স্যান্ড উচ্ছেদ অথবা অন্যত্রে সরিয়ে নিতে হবে।

সড়কের যানজটের পরিকল্পিত সংস্কার এবং বাস সংকট দুর করে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে প্রতিদিনের এই হাজার হাজার কর্মঘন্টা বাঁচাতে হবে।
নচেৎ, নোবিপ্রবিকে প্রাচ্যের ক্যাম্ব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের আদলে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখাটা আদৌ সমীচীন হবে কিনা শিক্ষার্থীদের মনে প্রশ্ন থেকেই যায়।

Sajjad zobayer
নোবিপ্রবি প্রতিনিধি

শেয়ার করুন