সাংবাদিক নিয়োগঃ
আজকের নোয়াখালী শিক্ষানবীশ সাংবাদিক নিয়োগ - আগ্রহীরা সিভি পাঠিয়ে দিন আমাদের মেইলঃ ajkernoakhali2019@gmail.com এ
স্বপ্নের বীজ বুনতে এসে মৃত্যুর বীজ বুনে চলে গেলেন আমাদের সৃজন

স্বপ্নের বীজ বুনতে এসে মৃত্যুর বীজ বুনে চলে গেলেন আমাদের সৃজন

ফেনী জেলা সদরের সুন্দরপুর গ্রামের প্রাকৃতিক পরিবেশে নিয়মের মধ্যে থেকে বেড়ে উঠা একটি মেধাবী নাম সৃজন। ছোট বেলা থেকেই সহজ-স্বাভাবিক জীবন যাপন করতেন সৃজন। অবসর সময়ে গল্পও লিখতেন ( তার বন্ধুদের ভাষ্যমতে)।
প্রচুর অধ্যবসায়ী এই ছেলেটি জীবনের সাথে সংগ্রাম করে গ্রামেই তার শৈশব আর কৈশরের আবেগময় সময় গুলো পার করেছেন। ফেনী সরকারি পাইলট স্কুল থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়ে সব বাধা কাটিয়ে উচ্চ স্বপ্ন নিয়ে রাজধানী ঢাকার বুকে পাড়ি জামান সৃজন। ভর্তি হন মাইলস্টোন কলেজে।

পরিবারের বড় ছেলে ছিলেন সৃজন। নিজের এবং পরিবারের স্বপ্ন এক করতে সফলভাবে কলেজ জীবন শেষ করেন। তখনও উচ্চ শিক্ষা গ্রহনের অদম্য ইচ্ছা শক্তি তাকে তাড়িয়ে বেড়াতো।

বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি যুদ্ধের প্রস্তুতিতে নেমে পড়েন সৃজন। দেখুন এখানে ও সে সফল। হাজার হাজার প্রতিযোগিকে টপকে গিয়ে সৃজন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিক সুযোগ পেয়ে যান।

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের ২য় ব্যাচের শিক্ষার্থী সৃজনের কথাই বলছিলাম এতক্ষণ। গত ২৫ জুন বিশ্ববিদ্যালয় পুকুরে ডুবে অকালে প্রাণ হারান আমাদের সামছুদ্দিন সৃজন।

মায়ের অতি আদরের সন্তান ছিলেন সৃজন। দিনে কয়েকবার ফোন দিয়ে খোজ নিতেন। যেন সৃজন এখনও সেই শিশুটিই রয়ে গেছে। নোয়াখালী শহরের একটি মেসে বন্ধুদের সাথে থাকতেন।

কোমল আচরণ আর হাসিখুশি স্বভাব দিয়ে ক্লাসের সব বন্ধুদের মন জয় করে নিয়েছিলেন সৃজন। প্রতিদিনের মতই গত ২৫ জুন ক্লাসে আসেন সৃজন। ক্লাস শেষে বন্ধুদের সাথে জন্মদিনের উৎসব পালন করে পুকুরে গোসল করতে নামেন।

ঘাটের সিড়ি বেয়ে এক-দু-পা করে নিচে নামেন। পরপর দু-টা ডুব দিয়ে মাথা পানির উপরে উঠিয়ে আনেন খুব স্বাভাবিকভাবেই। তৃতীয় ডুবে সৃজন পানির তলদেশে ডুবে যায়। সৃজন সাঁতার জানেনা এ ব্যাপারে তার বন্ধুরা জ্ঞাত ছিলেন না।

ঘন্টা অব্দি খোজার পর গভীর পুকুরের তলদেশ থেকে সৃজনের নিথর দেহ তুলে আনা হয়।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সৃজনকে মৃত ঘোষনা করেন। শোকের ছায়া নেমে আসে সবখানে।
যে সৃজন তার ফেসবুক টাইমলাইনে স্ট্যাটাসের নিচে নীলপদ্ম লিখে রাখতেন আজ সেই নীলদীঘিই তার জীবন কেড়ে নিলো।

যে বিশ্ববিদ্যালয় তাকে উচ্চ শিক্ষা নেয়ার সুয়োগ দিয়েছিল,আজকে সেই বিশ্ববিদ্যালয়েই এতদিনের লালিত স্বপ্ন গুলো অসমাপ্ত রেখে জীবনের শেষ সময়টি পার করে চলে গেলেন সৃজন। সাথে করে নিয়ে গেলেন দেশ গড়ার একটি গোছানো স্বপ্ন। একটি পরিবারের দায়িত্ব নেয়া থেকে সারাজীবনের জন্য দায়মুক্তি। স্বপ্নের বীজ বুনতে গিয়ে মৃত্যুর বীজ বুনে চলে গেলেন আমাদের সৃজন।

গৃহিণী মা এবং ব্যবসায়ী বাবার দুই সন্তানের মধ্যে সৃজন ছিলেন বড়। মায়ের বুক খালি করে পরপারে পাড়ি জমান সৃজন। মৃত্যুর পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত যে মানুষটির বিরুদ্ধে কারো কোন অভিযোগ ছিলনা, ছিলনা কেনো ক্ষোভ-বিদ্বেষ, সবার সেই প্রিয়মুখ সৃজন আর জীবিত নেই এমনটি মেনে নেয়ার মতোনা। তার রেখে যাওয়া কীর্তি তাকে সবার মাঝে বাঁচিয়ে রাখবে অনন্তকাল।

নোবিপ্রবি থেকে একটি সতেজ প্রাণ চলে গিয়েও হয়ে থাকবে অমর।
প্রস্তাব এসেছিল, নোবিপ্রবির যে দীঘিতে সৃজনের অকাল মৃত্যু হয়েছিল, যে দীঘির ঘাটলা বেয়ে পানিতে নেমে ডুব দিতে গিয়ে ডুবে যায় সৃজন সেই দীঘির নামকরণ করা হোক সৃজনদীঘি অথবা নীল দীঘির সৃজনঘাট।
সৃজন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অংশ হয়ে আমাদের মাঝে বেঁচে থাকবে চিরকাল।
তার বিদেহী আত্মার চিরশান্তি কামনা করছি।

sajjad zobayer
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

শেয়ার করুন