সাংবাদিক নিয়োগঃ
আজকের নোয়াখালী শিক্ষানবীশ সাংবাদিক নিয়োগ - আগ্রহীরা সিভি পাঠিয়ে দিন আমাদের মেইলঃ ajkernoakhali2019@gmail.com এ
নদীগর্ভে জেগে উঠা নোয়াখালীর “নিঝুম দ্বীপ”

নদীগর্ভে জেগে উঠা নোয়াখালীর “নিঝুম দ্বীপ”

নিঝুম দ্বীপ নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলার অন্তর্গত প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে উঠা একটি দ্বীপ। একে দ্বীপ বলা হলেও এটি মূলত একটি ‘চর’।
দ্বীপের পূর্ব নাম ছিল চর ওসমান।

ওসমান নামের একজন বাথানিয়া তার মহিষের বাথান নিয়ে প্রথম নিঝুম দ্বীপে বসত গড়েন। তখন তার নামেই এর নামকরণ করা হয়েছিল। পরে হাতিয়ার সাংসদ আমিরুল ইসলাম কামাল এই নাম বদলে নিঝুৃম দ্বীপ নামকরণ করেন।

প্রকৃতির নিজস্ব আদলে গড়ে উঠা এই ১৪,০৫০ একরের দ্বীপটি মূলত চারটি চর ( বল্লারচর, চর ওসমান, কামলারচর এবং চুরমুরি ) এর সমন্বয়ে ১৯৫০ খ্রিস্টাব্দের দিকে জেগে উঠে।
১৯৭০ খ্রিস্টাব্দের আগে কোন লোকবসতি ছিলনা। তাই দ্বীপটি নিঝুমই ছিলো। ৭০-এর দশকে বাংলাদেশ বন বিভাগ তাদের কার্যক্রম শুরু করার সময় প্রথমে পরীক্ষামূলকভাবে চার জোড়া হরিণ ছাড়ে। নিঝুম দ্বীপ এখন হরিণের অভয়ারণ্য।
প্রায় ৯১ বর্গ কি.মি. আয়তনের নিঝুম দ্বীপে ৯টি গুচ্ছ গ্রাম ছাড়াও বিভিন্ন যায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে ছোটখাটো ঝুপড়ি ঘর। নোনা পানি বেষ্টিত নিঝুম দ্বীপ কেওড়া গাছের অভয়রণ্য। ম্যানগ্রোভ বনের মধ্যে সুব্দরবনের পরে নিঝুম দ্বীপ কে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন বলে অনেকে দাবী করেন।
নোয়াখালীর হাতিয়ার এই বিশাল এলাকা বেষ্টিত পলিমাটির চর নিঝুম দ্বীপে রয়েছে প্রায় ৩৫ প্রজাতির পাখি। এছাড়াও শীতের মৌসুৃমে অজস্র প্রজাতির অতিথি পাখির অভয়ারণ্যে পরিণত হয়।
এই দ্বীপে যাতায়াত ব্যবস্থার জন্য জোয়ার ভাটার উপর নির্ভর করতে হয়। ক্রমেই পর্যটকদের পছন্দের তালিকায় জায়গা করে নিচ্ছে নদীগর্ভে জেতে উঠা এই নিঝুম দ্বীপ। এখানে পর্যটকদের জন্য রয়েছে অবকাশ নিঝুম রিসোর্ট।

বনবিভাগের সার্বিক পরিকল্পনা এবং তত্বাবধানে নিঝুম দ্বীপ তার স্বকীয়তা বজায় রাখছে। হরিণ ও মহিষ ছাড়া এই দ্বীপে কোন হিংস্র পশু নেই। আর বর্ষার মৌসুমে রয়েছে ইলিশের জয়জয়কার।

Sajjad zobayer
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়,নোবিপ্রবি

শেয়ার করুন