সাংবাদিক নিয়োগঃ
আজকের নোয়াখালী শিক্ষানবীশ সাংবাদিক নিয়োগ - আগ্রহীরা সিভি পাঠিয়ে দিন আমাদের মেইলঃ ajkernoakhali2019@gmail.com এ
“বকুল মায়ায় পায়েল তুমি “

“বকুল মায়ায় পায়েল তুমি “

“বকুল মায়ায় পায়েল তুমি ”

শহর টা বিবর্ণ হয়ে পড়েছিলো,

গাছের ডাল পালা গুলো ও কিঞ্চিত

অসাবধানতায় ভুগছিলো,

অনেক দিন পর আজ হেটে যাচ্ছিলাম,

আগে আসা হতো প্রতিদিন রাস্তাটায়,

হঠাৎ বা’ দিককার গলিটা চোখে আটকালো,

কেনো জানি বুকের বা’ দিকটায় ও হিবিজিবি

ব্যাথার আশ্রয়, মন টা শরীরটাকে চুম্বকের মতো

টেনে নিয়ে যাচ্ছে সেদিক টায়,

আমি চাইলাম বাধ সাধতে,

নিঃশব্দে অনেক বার নিজেকে শাসনের

রাগি রাগি লালচে চোখ দুটো দেখালাম, কিন্তু!!

এতো হবার ই ছিলো!! শুধু সময়ের অপেক্ষায় ই!!

বেখেয়ালে ই চলে এলাম কখন জানি!!

এতোক্ষন বুকের বা’দিক টায় যে হিজিবিজি

ব্যাথার মিছিল চলছিলো তা আর এখন নেই,

সেখানে ভেসে এসেছে স্পষ্ট চিহ্ন।

স্পষ্টতর হতে লাগলো স্মৃতির ডায়েরী টা,

প্রতিটি পাতা, উল্টে আসছে চোখের তারায়,

বইছে তারা চোখের অশ্রু ধারায়।

আরেকটু ভেতরের দিকটায় যেতেই চোখ

পড়লো বকুল ফুলের ছোট্ট গাছটি,

চারটে বছর পেরিয়ে গেলো,

তবু ওটা ঠায় দাড়িয়ে আছে আগের মতো,

একটু ও বদলে যায় নি, বাড়েও নি!!

বকুল ফুলের হ্রদয় খুন করা ঘ্রাণ স্মরণ করিয়ে

দিলো তোমার স্মৃতি!!

মুহূর্তে বুকের বাম পাশ টা এতো ভারী হয়ে গেলো

যে আর দাড়িয়ে থাকা সম্ভব হচ্ছিলো

না আমার পক্ষে। না খেতে পারা অসহায় দুপুরে

রাস্তায় আইল্যান্ডে বসে থাকা কোনো একটি

ছোট্ট মেয়ের মতো বসে পড়লাম গাছটার নিচেই।

এতোক্ষন শুধু অশ্রু বইছিলো, কিন্তু !

কিন্ত এবার খুব করে কান্না চাপছে, নিজেকে

আবার শাসনের চোখ দেখালাম,তবে এবার রাগি

চোখে না, অভিমানের চোখে!

বুঝালাম নিজেকে এটা হওয়ার ই ছিলো!!

কিন্ত!

মন!! সে মানে না কোনো বাধা, শুনে না কোনো

কথা,সে শুধু আটকে পড়ে জালে,

বুঝে কেবল মায়া।।

আনমনে কতক বকুল হাতে তুলে নিলাম,

হাওয়ায় ভাসছিলাম, কেনো জানি মনে হচ্ছে

এখন ই তুমি এসে আদুরে গলায় আমায় বকে

দিবে। কেনো দেরি করে এলাম তাই ভেবে।

অভিমানের পাহাড় ভাঙিয়ে আমি তখন

তোমার হাতে একটা চিমটি কেটে দুষ্টু হাসি দিবো।

আর তুমি বকুল ফুল গুলো আমার হাত থেকে

নিয়ে জাদুকরের মতো কি যেনো করবে,আর

আমার পায়ে পড়িয়ে বলবে পায়েল টা খুব

মানিয়েছে তো তোমায়!!

আমি আবার এক গাল হেসে দেবো,

বাঁধনছাড়া সেই হাসি, তুমি অমৃত চোখে তাকিয়ে

সে হাসির নকশা রাখতে নিজের পকেটে।

একটু ভাব দেখিয়ে আবার বকুনি গলায়

বলতে ‘তুমি কি বাচ্চা? এভাবে কেনো হাসছো? ‘

ঠিক তখন আমি একটু গোমরা মুখে নত হলাম

আর তুমি এবার বলবে ‘ওরম করে হাসো

কেনো,আমি তো আবার প্রেমে পড়ে যাই তোমার

টোল পড়া গালের দলছাড়া হাসিতে,আচ্ছা,

শুধু আমার সামনেই হেসো, তবেই মানছি! ‘

আমি আবার একগাল হেসে দেবো,

এহাসি তে জয়ের অনুভুতি আছে, তোমার

ভালোবাসা জয়ের!?

তারপর আমার পাশে ঘাসের উপর শুয়ে

পড়তে,হরেক রকম গল্পে মুখোরিত করতে

আমায়,নাম না জানা কতো শতো গুল্মের

মিস্টি ঘ্রাণে দুজন সুবাসিত হতাম।

বিকেল টা এমন করেই কেটে যেতো, সন্ধে নামার

আগেই আবার আমরা হাটতাম, অনুপমের গান

তোমার খুব প্রিয় ছিলো, বায়না ধরতে শুনানোর

জন্যে, আমি ও বাধ্য মেয়ের মতো শুনোতাম,,,

দুটো আগুলে শক্ত একটা বাধন,,,, চা খুব পছন্দ

করতাম,দুজনে মিলে পাশের দোকানটায় চা আর

পিঁয়াজু খেতাম, পিয়াজু আমার খুব প্রিয়,সাথে

কতক কাচামরিচ, আর বিটলবণ হলে তো জমেই

যেতো।আমার কাচামরিচ খাওয়া দেখে প্রথম

দিকে তুমি হা ‘ করে থাকতে,তখন নিজেকে

এলিয়েন মনে হতো,পরে অবশ্য নিজেও খাওয়া

শুরু করলে, সেটা দেখে অনেক হেসেছিলাম মনে

মনে।নিজের অজান্তেই হেসে নিলাম, কই তুমি!!

বাস্তবতায় ফিরে এলাম, আমি সেই দোকানটায়

দাড়িয়ে আছি!! তবে একা!!

দোকানিকে পিয়াজু দিতে বললাম, আর সামনের

চেয়ারটায় বসে পড়লাম, সব কিছু কেমন জানি

তালগোল পাকিয়ে যাচ্ছে, তোমার ভাবনায় বুদ

হয়ে যাচ্ছি বারবার।

পিয়াজু চলে এসচে,একাই খেলাম, তুমি থাকলে

আরো দু প্লেট খাওয়াতে জোর করে।

এলেমেলো লাগছিলো নিজেকে, সামলাতে

পারছিলাম না, ওদিকে আকাশে ফরাসি লন্ঠনের

মতো চাদ ঝুলছিলো, একপলক চেয়েই রইলাম।

চারিপাশে তুত রঙা অন্ধকার নামছিল, তুমি

বললে চা খেয়ে নিতে তারাতারি, আমি ঘড়ি

দেখলাম সময় হয়ে এসচে হলে ফেরার, চা টা

খেয়ে নিলাম।বাতাসে তখন কমলার মতো ঘ্রাণ,

আমরা এগিয়ে গেলাম সামনের দিকে।

যানচলাচল থাকলে ও খালি কিছুই পাচ্ছিলাম না।

হঠাত তুমি নিয়ে আসলে কাঠ ফড়িং য়ের মতো রিক্সা!!

আচ্ছা জাদুকর ছিলে তুমি!!!

আমি লজ্জা পাচ্ছিলাম উঠতে, কিন্ত ওদিকে

সময়ের কথা ভেবে এগিয়ে এসেছিলাম।

রিক্সায় উঠে বসলাম, সেদিন প্রথম আমরা রিক্সায়

উঠেছিলাম। তুমি জানতে শহরের হলুদ

ল্যাম্পপোস্টের আলো আমার খুব ভালো

লাগে। আমাদের হুড নামানোই ছিলো।

দোকানের পিচ্ছি ছেলেটার ডাকে আবার বাস্তবে

ফিরে এলাম, স্মৃতিমাখা দিন গুলো ডানা ছাড়া

পরীর মতো লাগছিলো।

আবার পথ ধরলাম। কাচের মতো মনে হচ্ছিলো

জোনাক পোকা গুলো।

পথটা এখন স্বপ্নের মতো ক্ষনস্থায়ি। জানি তার

চেয়েও এই স্বপ্নটা ঢের বেশি ক্ষণস্থায়ী।

তুমি বিয়োগে আজ চারটি বছর। আমাদের শেষ

স্মৃতি ছিলো এখান টায়। আমি নিজেকে অনেক

সামলে নিয়েছি।

বাসায় ফেরার পালা।বাসে উঠে আকাশের দিকে

তাকিয়ে ভাবলাম অনেক দূরে থাকো

তুমি? ভালো থেকো।

হয়তো আমার প্রতি উত্তর তোমার শুনা আর হবে না।
ব্যস্ততম এই শহরের পরাজিত ল্যাম্পপোস্টের

হলুদ আলোয় চিতকার করে আজ

খুব বলতে ইচ্ছে হচ্ছিলো

‘ভালোবাসি ‘।

লিখাঃ –
জান্নাত
ACCE 10th batch
NSTU

শেয়ার করুন