সাংবাদিক নিয়োগঃ
আজকের নোয়াখালী শিক্ষানবীশ সাংবাদিক নিয়োগ - আগ্রহীরা সিভি পাঠিয়ে দিন আমাদের মেইলঃ ajkernoakhali2019@gmail.com এ
নোয়াখালী জেলা আওয়ামীলীগের ত্রি-বার্ষীক সম্মেলন সম্পন্ন, পূর্বের কমিটি বহাল

নোয়াখালী জেলা আওয়ামীলীগের ত্রি-বার্ষীক সম্মেলন সম্পন্ন, পূর্বের কমিটি বহাল

আজকের নোয়াখালী, নিজস্ব প্রতিনিধি:
নোয়াখালী জেলা আওয়ামীলীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন বিচ্ছিন্ন দু-একটি ঘটনার মধ্যদিয়ে সুশৃঙ্খল ভাবে শেষ হয়েছে। উপস্থিত কাউন্সিলরদের সমর্থন নিয়ে সমাবেশ স্থলেই পূর্বের কমিটি বহাল রাখা হয়েছে।
আজ বুধবার (২০ নভেম্বর) জেলা শহীদ ভুলু স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুন্ত্রী ওবায়দুল কাদের নতুন কমিটি ঘোষনা করেন। প্রধান অতিথীর বক্তব্য শেষে পূর্বের কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ এ.এইচ.এম খায়রুল আনাম চৌধুরী সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরীকে পূনরায় কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ঘোষনা করেন।
প্রধান অতিথীর বক্তব্যে ওবায়দুল কাদের বলেন, সড়ক পরিবহণ আইন ও পেঁয়াজের সিন্ডিকেট নিয়ে বিএনপি উসকানি দিচ্ছে। পেঁয়াজের দাম বাড়ানোর পিছনে বিএনপির উসকানি ছিলো। লবণের দাম বাড়ানো হয়েছে বলে গুজব ছড়িয়ে কোন লাভ হয়নি। সর্বশেষ সড়ক পরিবহন আইন নিয়ে বিএনপি উসকানি দিচ্ছে। যদি কোন লাভ হয়! ফখরুল সাহেব ধীরে চলুন। কোন লাভ হবেনা।’

জনগণকে দুর্ভোগে না ফেলতে বাস মালিকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর পরিবহণ মালিক-শ্রমিকরা আন্দোলন তুলে নেবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন ওবায়দুল কাদের। ‘

ওবায়দুল কাদের আরও জানান, ‘ভারতের কাছে বিএনপি আনুগত্য ভিক্ষা করে, আর আওয়ামী লীগ করে বন্ধুত্ব। ভারতের সঙ্গে কোনো চুক্তি হয়নি, অথচ বিএনপি ফেসবুকে গুজব ছড়িয়েছে।’

এর আগে, নোয়াখালীতে আওয়ামী লীগের জেলা সম্মেলনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় উভয় পক্ষের ৬৪ জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। সংঘর্ষ চলাকালে সম্মেলনের ব্যানার, ফেন্টুন ও বিলবোর্ড ভাংচুর করা হয়ছে। এ সময় ককটেল বিষ্ফোরণ ও গুলির শব্দে শহরে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে আহতদের নোয়াখালী জেনালের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় নেতা-কর্মীরা জানান, সকাল নয়টার দিকে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী নোয়াখালী পৌরসভার মেয়র শহিদ উল্যাহ খাঁন সোহেলের একটি মিছিল থেকে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নোয়াখালী-৪ আসনের সাংসদ একরামুল করিম চৌধুরীর গাড়ি বহরে ধাওয়া দেয়। পরে মেয়র সমর্থকের মিছিলটি সমাবেশ স্থল শহীদ ভুলু স্টেডিয়ামে প্রবেশ করে কয়েকশ চেয়ার ভাংচুর করে এবং উপস্থিত নেতা-কর্মীদের বেশ কয়েক জনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করে। এর পর উভয় পক্ষ সভাস্থল থেকে বের হয়ে সড়কে অবস্থান নেয়। প্রথমে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও পরে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে পুরো শহরের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ লেগে যায়।
এ বিষয়ে জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরী এমপি বলেন, মেয়র সমর্থকদের মধ্যে বেশিরভাগ বিএনপির ক্যাডার ছিলো। তাদের উদ্দেশ্য নোয়াখালীর সু-শৃঙ্খল রাজনীতিতে বিভাজন সৃষ্টি করা এবং আওয়ামীলীগের থেকে দখলদারিত্ব কেড়ে নেয়া। সকল অপরাজনীতির অবসান ঘটিয়ে নোয়াখালী জেলা আওয়ামীলীগের বিজয় হয়েছে বলেও তিনি জানান।
এদিকে হামলা ও সংঘর্ষে নিজের সম্পৃক্ততা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করে মেয়র শহিদ উল্যাহ খাঁন সোহেল বলেন, তার বিরুদ্ধে সড়যন্ত্র করা হয়েছে। এই হামলা ও সংঘর্ষের তার কোন নেতা-কর্মী ছিলোনা। এমপি সমর্থকেরা উত্তেজনা ছড়িয়ে আমাদের দোষারোপ করছে। নিজের নেতা-কর্মীদের শান্ত থাকার আহবানও করেন মেয়র সোহেল।

শেয়ার করুন