সাংবাদিক নিয়োগঃ
আজকের নোয়াখালী শিক্ষানবীশ সাংবাদিক নিয়োগ - আগ্রহীরা সিভি পাঠিয়ে দিন আমাদের মেইলঃ ajkernoakhali2019@gmail.com এ
“সুরা ফাতেহা পাঠ করে:দূর্গা পুজার অনুষ্ঠান শুরু!

“সুরা ফাতেহা পাঠ করে:দূর্গা পুজার অনুষ্ঠান শুরু!

‘শান্তানন্দ ব্রাক্ষ্মচারী’ নামে এক যোগী তার আস্তানায় দূর্গাপুজা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের সূচনা করেছেন সূরা ফাতেহা পাঠের মাধ্যমে ।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই সুরা ফাতেহা ও গীতা পাঠ করা হয়েছে । যোগীর পুরো আস্তানা জুড়ে কোথাও কোন পূজামন্ডপ ছিলোনা ।
আলোচিত এই ঘটনাটি ঘটেছে, শেরপুর শহরের পোদ্দার কমপ্লেক্স ভবনের ৪র্থ তলায় ‘শান্তানন্দ ব্রাক্ষ্মচারী’ নামে ওই যোগীর আস্তানায় । অনুষ্ঠানে ব্রাক্ষ্মচারীর ভাষণ শোনার জন্য মুসলমানরাও ভিড় জমায় ।
অনুষ্ঠানে ‘শান্তানন্দ ব্রাক্ষ্মচারী’ দুর্গতিনশিনী দুর্গার ৯টি রুপ তুলে ধরেছেন । তাঁর অনুষ্ঠানে ঢোল বাজনা ছিলো নিষিদ্ধ ।
জানা যায়, গত ২৮/০৯/২০১৭ ইং রোজ বৃহস্পতিবার দুপুর বেলা, ‘শান্তানন্দ ব্রাক্ষ্মচারীর’ আস্তানায় পুজা উপলক্ষে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছিলো । সভায় ‘শান্তানন্দ ব্রাক্ষ্মচারী’ তাঁর ভাষনে গতানুগতিক লৌকিক দুর্গাপূজার বিরোধিতা করে বলেন, ধর্মের নামে গুরু নামধারী ব্যাক্তিরা এখন অধর্ম করে চলেছেন । অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে বিকেল বেলা মিলাদ হয়েছে বলেও জানাযায় । সেদিন কয়েকশ মানুষের বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যাবস্থা ও করেছেন ‘শান্তানন্দ ব্রাক্ষ্মচারী’ । নামাজের সময় বিরতি দিয়ে সন্ধার পর ভক্তদের বিভিন্ন ধর্মোপদেশ ও মানবতার দীক্ষা দিয়েছেন তিনি ।

আলোচনার এক পর্যায়ে ‘শান্তানন্দ ব্রাক্ষ্মচারী’ বলেন, ‘পবিত্র কোরআন শরীফের মূল হচ্ছে সূরা ফাতেহা’ আর সনাতন ধর্মের মূল পাঠ্য বেদের গায়ত্রী মন্ত্রের অর্থ একই ।
দূর্গা পূজাকে যেহেতু সার্বজনীন বলা হয়, তাই এখানে সব ধর্মের গ্রন্থ পাঠ করা দোষের কিছু নেই ।
তিনি আরো বলেন, সনাতন ধর্মের মানুষ গতানুগতিক যে দুর্গাপূজা করছেন তা ‘তামাসা ও রাজসিক’ ।
ব্রিটিশ আমলে ১৭৫৭ সালে রাজা কংস নারায়ণ ও ব্রিটিশের দালাল জমিদার নবকৃষ্ণ, ব্রিটিশদের খুশি করতে দুর্গাদেবীর মুর্তি বানিয়ে নারী সমাগম ঘটিয়ে এমন আয়োজন করতেন ।
আর তা দেখে একদল ব্রাক্ষ্মণ মদ খেয়ে দেবীর পূজার নামে অধর্ম চালু করেছেন। তিনি বলেন, দেবী দূর্গার রূপ নারীর রূপ হতে পারেনা । অমঙ্গলনাশিনী দুর্গা নানা রূপে পৃথিবীতে এসেছেন ।
‘শান্তানন্দ ব্রাক্ষ্মচারী’ বলেন, ধর্ম অনুভবের বিষয় যা আত্নক্রিয়ার মাধ্যমে আয়ত্ত হয় । তথাকথিত কোন পূজাতেই সাত্তিক (অনিভব) বিষয় নেই, আত্নিক কোন বিষয়ও নেই ।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে, ব্রাক্ষ্মচারীর পক্ষে-বিপক্ষে নানা মন্তব্য হচ্ছে । এদিকে শান্তানন্দর এক ভক্ত লব দে বলেন, ব্রক্ষ্মণরা এই ধর্ম গুরুকে হত্যার চেষ্টা করছে । নানাভাবে হয়রানিরও চেষ্টা করছে ।
শেরপুর জেলার পুরহিত কল্যাণ সমিতির সভাপতি বিজয়কৃষ্ণ চক্রবর্তী বলেন, যোগী নামের আড়ালে নাস্তাক শান্তানন্দ কটাক্ষ করছেন হাজার বছর ধরে চলে আসা হিন্দু নিয়ম কানুনকে । মনগড়া কথা বলে তিনি ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত করছেন । এতে হিন্দু সমাজের মধ্যে চরম হতাশা ও ক্ষোভের সঞ্চার হচ্ছে । তিনি আরো বলেন, পূজার পর তার বিরুদ্ধে আইনি ও ধর্মীয় ব্যাবস্থা নেওয়া হবে ।

এ বিষয়ে শান্তানন্দ ব্রাক্ষ্মচারী বলেন, ব্রাক্ষ্মণদের সঙ্গে ‘বাহাস’ করতে তিনি প্রস্তুত আছেন । তিনি বলেন, বিতর্ক হতে হবে ধর্মগ্রন্থ বেদ, রামায়ণ ও মহাভারতের ভিত্তিতে । জোর জবরদস্তি এখানে চলবেনা । চলবে যুক্তি আর পাল্টা যুক্তি প্রদর্শন ।

বিডিএক্সপ্রেস/ ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৭/আর.আই.রাহাত

তথ্য সূত্রঃ দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন,৩০-০৯-২০১৭ ইং (পিছনের পাতা) ।

শেয়ার করুন