সাংবাদিক নিয়োগঃ
আজকের নোয়াখালী শিক্ষানবীশ সাংবাদিক নিয়োগ - আগ্রহীরা সিভি পাঠিয়ে দিন আমাদের মেইলঃ ajkernoakhali2019@gmail.com এ
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে কমন টপিকসে বেশি গুরুত্ব দিন

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে কমন টপিকসে বেশি গুরুত্ব দিন

সঠিক কৌশল ও বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে পড়াশোনা এগিয়ে নিলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অংশে অবশ্যই ভালো করবেন l ছবি: সৌরভ দাসএকজন বিসিএস প্রত্যাশীর বিজ্ঞানে কতটা দক্ষতা আছে তা-ও যাচাই করা হয় প্রিলিমিনারি পরীক্ষায়। দুটি দৃষ্টিকোণ থেকে বিজ্ঞান অংশে প্রশ্ন করা হয়। যথা ক. দৈনন্দিন জীবনে বিজ্ঞান অর্থাৎ সাধারণ বিজ্ঞান যাতে ১৫ নম্বর বরাদ্দ থাকে। খ. কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি যেখানে ১৫ নম্বরের প্রশ্ন থাকে। তাহলে দেখা গেল বিজ্ঞান অংশে সর্বমোট ৩০ নম্বর বরাদ্দ আছে। একটা কথা বলা প্রয়োজন বিজ্ঞান, বাণিজ্য ও মানবিক শাখার শিক্ষার্থীরা বিসিএস পরীক্ষা দেন। স্বাভাবিকভাবেই বাণিজ্য ও মানবিক ব্যাকগ্রাউন্ডের প্রতিযোগীরা বিজ্ঞান সম্পর্কে গভীর ধারণা রাখার কথা নয়। কারণ, একাডেমিক জীবনে তাঁরা এটি বেশি পড়ার সুযোগ পাননি। তাই যদি অতিমাত্রায় কঠিন প্রশ্ন করা হয় তাহলে বাণিজ্য ও মানবিক শাখার প্রতিযোগীদের বিরাট অসুবিধা হবে। তাই বিসিএসে বিজ্ঞান অংশে একটা গড় প্রশ্ন করার চেষ্টা করা হয়। দু-একটা কঠিন প্রশ্ন হয়তো থাকতে পারে; এর বেশি না। একটা কথা মনে রাখবেন, প্রশ্ন করে প্রতিযোগীকে আটকানো পিএসসির লক্ষ্য নয়; পিএসসির লক্ষ্য স্টান্ডার্ড অনুযায়ী প্রতিযোগীর মেধা যাচাই। তাই বিজ্ঞান নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা বা ভয়ের কোনো কারণ নেই। সঠিক কৌশল ও বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে পড়াশোনা এগিয়ে নিলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অংশে অবশ্যই ভালো করবেন। বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি অংশে ভালো করার জন্য নিচের টিপসগুলো অনুসরণ করতে পারেন।

ক. এটা লক্ষ করা গেছে যে, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রশ্নগুলো সবচেয়ে বেশি রিপিট হয়ে থাকে। এমনকি কখনো কখনো অপশনগুলোও সিরিয়াল অনুযায়ী পর্যন্ত ঠিক থাকে। তাই বিগত বছরের প্রিলিমিনারির বিজ্ঞান প্রশ্নগুলো খুব ভালো করে পড়বেন। এ ক্ষেত্রে অবশ্যই ব্যাখ্যাসহ পড়বেন।

খ. বিসিএসের বাইরে অন্যান্য যে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা হয় সেখানেও কিছু বিজ্ঞান-সম্পর্কিত প্রশ্ন হয়ে থাকে। সেগুলো জব সলিউশন থেকে দেখে নেবেন।

গ. বিজ্ঞানের কিছু জিনিস চিত্র বা ভিডিও দেখে পড়বেন। এতে সহজে মনে রাখা যায়। যেমন: হৃৎপিণ্ডের চিত্র দেখে আপনি খুব সহজেই হৃৎপিণ্ডের গঠন ও অবস্থা সম্পর্কে ধারণা পাবেন। যদি বই ও গাইডে চিত্র না থাকে তবে নেটে একটু খোঁজ নেবেন। আশা করি পেয়ে যাবেন।

ঘ. কনফিউজিং বিষয়গুলো নিজের মতো করে কৌশল করে মনে রাখুন। যেমন: আইসোটোপ, আইসোটোন, আইসোবার ইত্যাদি। খাতায় নোট করুন।

ঙ. ভৌতবিজ্ঞান অংশে পদার্থের অবস্থা, অ্যাটমের গঠন, কার্বনের বহুমুখী ব্যবহার, অ্যাসিড, লবণ ও ক্ষার মনোযোগ দিয়ে পড়বেন।

চ. বিজ্ঞানে বিভিন্ন পরিমাপক যন্ত্র আছে। যেমন তরলের পৃষ্ঠটান পরিমাপক যন্ত্রের নাম কী? এমন কিছু বাছাই করে পড়বেন।

ছ. বিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ সব আবিষ্কার ও আবিষ্কারকের নাম জানতে হবে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আবিষ্কারের সালও জানতে হবে। যেমন বায়ু পাম্প কে আবিষ্কার করেন?

জ. বাছাই করে কিছু পদার্থের রাসায়নিক সংকেত পড়বেন। যেমন চুম্বকের রাসায়নিক সংকেত কী?

ঝ. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক কিছু সংক্ষিপ্ত শব্দের পূর্ণ রূপ জেনে যাবেন। যেমন YAHOO/NTP এর পূর্ণ রূপ কী?

ঞ. সময় থাকা সাপেক্ষে অষ্টম ও নবম-দশম শ্রেণির সাধারণ বিজ্ঞান বই দুটো দৈনন্দিন বিজ্ঞানের অংশ হিসেবে পড়ে নেবেন। অনেক সময় বিস্তারিত পড়লে বোঝাও সহজ হয় এবং মনে রাখাও সহজ হয়। যাঁরা বিজ্ঞানে দুর্বল তাঁদের জন্য এটি সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি।

ট. একটি গাইড অবশ্যই সংগ্রহে রাখবেন যেখানে সিলেবাসের সঙ্গে মিল রেখে আলোচনা করা হয়েছে। এমপিথ্রি দৈনন্দিন বিজ্ঞান গাইড হতে পারে।

ঠ. টপিকসগুলোর গুরুত্ব ঠিক করবেন বিগত সালের প্রশ্নের উপস্থিতির সঙ্গে মিল রেখে। অর্থাৎ যা আসছে তার প্রাসঙ্গিক তথ্যগুলো বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

ড. কিছু রাশির একক ভালো করে পড়বেন। পারলে প্রতীকও। যেমন দীপন ক্ষমতার একক কী?

ঢ. বিভিন্ন ফল ও সবজিতে এস্টার যৌগ ও জৈব এসিডির উপস্থিতি সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে। যেমন সূর্যমুখী তেলে কোন অ্যাসিড থাকে?

ণ. জীববিজ্ঞান অংশে টিস্যু, জেনেটিকস, ছত্রাকের বিভিন্ন নাম ও ব্যবহার, অর্গান ও অর্গান সিস্টেম, ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, দ্বিপদ নামকরণ, ভিটামিন ইত্যাদি জোর দিয়ে পড়তে হবে।

ত. কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তির জন্য সময় থাকা সাপেক্ষে প্রকৌশলী মুজিবুর রহমানের এইচএসসি কম্পিউটার বই পড়বেন। অনেক কিছুর ভালো ব্যাখ্যা দেওয়া আছে।

থ. বিভিন্ন ব্যাংক জব এক্সামে কম্পিউটারের ওপর ভালো মানের প্রশ্ন হয়ে থাকে। যদি সম্ভব হয় একবার দেখে নেবেন। অন্তত সরকারি ব্যাংকগুলোর কম্পিউটার প্রশ্ন দেখবেন।

দ. কম্পিউটার অংশের জন্য একটা গাইডই যথেষ্ট। সেটা হতে পারে জর্জের লেখা ‘ইজি কম্পিউটার’।

ধ. কিছু গুরুত্বপূর্ণ টপিকস হলো কী-বোর্ডের গুরুত্বপূর্ণ কীর কাজ, স্মৃতি-সংক্রান্ত পরিমাপ, কম্পিউটারের ইতিহাস, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক, ইন্টারনেট ব্যবস্থা, তথ্যপ্রযুক্তির বড় প্রতিষ্ঠান ও তাদের কাজ, এমএস এক্সেলের মূল কাজ ইত্যাদি।

ন. দৈনিক কমপক্ষে এক ঘণ্টা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ওপর পড়াশোনা করার জন্য বরাদ্দ রাখবেন। প্রস্তুতিটা ধাপে ধাপে সামনের দিকে নিয়ে যাবেন।

প. যদি কারও কাছে কোনো বিষয় কঠিন লাগে তাহলে মৌলিক বইগুলোতে দেখে নিন। এতে সহজ হতে পারে।

ফ. তথ্য ও প্রযুক্তির দিকপালদের সংক্ষিপ্ত কর্ম ও জীবন সম্পর্কে ধারণা নিন। যেমন: বিল গেটস, স্টিভ জবস, জেরি ইয়াং ইত্যাদি।

ব. নতুন কোনো আলোচিত ও আলোড়িত বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার হলে তার ধারণা নেওয়ার চেষ্টা করুন।

ভ. টেকনিক্যাল টার্ম সম্পর্কে ভালো ধারণার জন্য প্রয়োজনে অভিজ্ঞ কারও সহযোগিতা নেওয়া যেতে পারে।

ম. বিজ্ঞান বিভাগে যাঁরা পড়েছেন তাঁরা আবার এই বিষয়টি তত হালকাভাবে নেবেন না। তাহলে জানা জিনিসও ভুল হয়ে যেতে পারে।

য. সরকার কাজকে সহজ করতে যদি বিশেষ কোনো প্রযুক্তি ব্যবহার করে তবে তা জেনে নেবেন। এটা দৈনন্দিন জীবনে আইসিটির ব্যবহার অংশে প্রশ্ন হতে পারে।

র. পদার্থ, রসায়ন ও চিকিৎসাবিজ্ঞানে যাঁরা সর্বশেষ ও আলোচিত ব্যক্তি হিসেবে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন তাঁদের সম্পর্কে একটু জানুন। বিশেষ করে নোবেল পাওয়ার সাল ও কারণ মনে রাখুন।

ল. গুগল, মাইক্রোসফট, এপল, আইবিএম, ফেসবুক, অ্যামাজন, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম, লিংকডইন, ভিকে ইত্যাদির যাত্রার সাল মনে রাখুন।

এভাবে পড়তে থাকুন। বেশি চাপ নেওয়ার প্রয়োজন নেই বা তত উত্তেজিত হয়ে যাবেন না। এতে হিতে বিপরীত হতে পারে। স্বাভাবিক গতিতে পড়ার কোনো বিকল্প নেই। তাতেই ভালো ফলাফল বয়ে আনবে। সবার জন্য শুভকামনা।

লেখক: প্রশাসন ক্যাডার (দ্বিতীয় স্থান), ৩৪তম বিসিএস

শেয়ার করুন