সাংবাদিক নিয়োগঃ
আজকের নোয়াখালী শিক্ষানবীশ সাংবাদিক নিয়োগ - আগ্রহীরা সিভি পাঠিয়ে দিন আমাদের মেইলঃ ajkernoakhali2019@gmail.com এ
হঠাৎ ধর্মঘটে ক্রিকেটাররা, পাপন বললেন দেশের ক্রিকেট ধ্বংস করতে ষড়যন্ত্র

হঠাৎ ধর্মঘটে ক্রিকেটাররা, পাপন বললেন দেশের ক্রিকেট ধ্বংস করতে ষড়যন্ত্র

আজকের নোয়াখালী; ক্রীড়া প্রতিবেদক:

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে পারিশ্রমিক বাড়ানোসহ ১১ দফা দাবি নিয়ে প্রথমবারের মতো সব ধরনের আসর থেকে বিরত থেকে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন দেশের ক্রিকেটাররা।

তাদের দাবি দাওয়ার মধ্যে রয়েছে, ম্যাচ ফি বাড়ানো, প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগে পছন্দমতো দল বদলের সুযোগ দেওয়া, ওয়ানডে টুর্নামেন্টের সংখ্যা বাড়ানো, বিপিএলে দেশি ও বিদেশি ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিকের সামঞ্জস্য থাকা প্রভৃতি।

অবশ্য এসব দাবি ক্রিকেটারদের বহুদিনের। দাবিগুলো নিয়ে জনে জনে কথা বলছেন  ক্রিকেটাররা। কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে ক্রিকেট বোর্ডকে জানাননি কখনোই। টাইগার অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের নেতৃত্বে জাতীয় দলের বর্তমান ও সাবেক ক্রিকেটাররা একাট্টা হয়ে গতকাল মিডিয়ার মুখোমুখিতে লিখিত আকারে ১১ দফা দাবি পেশ করে সব ফরম্যাটের ক্রিকেটে ধর্মঘটের ডাক দেন। দাবি না মানা পর্যন্ত তারা মাঠে না নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এ নিয়ে হতবাক হয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘দাবি দাওয়ার বিষয়গুলো ক্রিকেটাররা আমাদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানাতে পারতেন’। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান মিডিয়ার মুখোমুখিতে যখন বলেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত সব ফরম্যাটের ক্রিকেটে বিরত থাকবেন, তখন মিরপুর একাডেমি মাঠে উপস্থিত তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, নুরুল হাসান সোহান, এনামুল হক বিজয়সহ উপস্থিত শ খানেক ক্রিকেটার হাততালি দিয়ে একাত্মতা ঘোষণা করেন। তবে ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। এ নিয়ে তার কোনো বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।

দেশের ক্রিকেট ধ্বংস করতেই এই ধর্মঘট : পাপন

ক্রিকেটারদের হঠাৎই এই ধর্মঘট ডাকার পরই নড়েচড়ে বসে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড বিসিবি। বোর্ড প্রথম থেকেই বলছে, ক্রিকেটাররা তাদের সঙ্গে কোনো আলাপই করেনি। তাদের দাবি-দাওয়াগুলো আগে পেশ করেনি তারা বিসিবির কাছে।

আজ সকাল থেকেই মিরপুর শেরেবাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়াম সরগরম ক্রিকেটারদের ধর্মঘট এবং আলটিমেটাম নিয়ে। দুপুরের দিকে জরুরি বৈঠকে বসেন বিসিবি পরিচালকরা। এরপরই বিকেল সোয়া ৩টার দিকে সংবাদ সম্মেলন করতে আসেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন।

বিসিবি সভাপতি মনে করেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। যার অংশ হিসেবে ক্রিকেটাররা আন্দোলনে নেমেছে এবং ধর্মঘট ডেকে খেলা বন্ধ করে দিয়েছে।

ষড়যন্ত্রকারীরা বাংলাদেশের ইমেজ এবং বাংলাদেশের ক্রিকেটের ইমেজ নষ্ট করে দিয়েছে। পাপন দাবি করেন, ক্রিকেটাররা দাবি-দাওয়া নিয়ে আমাদের সঙ্গে আলোচনা করেনি কেন? করলে তো ওদের দাবি আমরা মেনে নিতাম। এখন পর্যন্ত তারা যে সব দাবি তুলেছে, আমরা কোনটা পূরণ করিনি?

তারা আগে আমাদের কাছে দাবিগুলো পেশ না করে মিডিয়ার সামনে বললো। তারা তো জানে, আমাদের কাছে দাবি পেশ করলে আমরা সেগুলো মেনে নেবো। মেনে নিলে তো খেলা বন্ধ করতে পারতো না। এ কারণেই আমাদের না বলে মিডিয়ার সামনে বলেছে।

পাপন দাবি করেন, এতে বাংলাদেশেরই সম্মানহানি হয়েছে। ক্রিকেটের সম্মানহানি হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে দাবি না তুলে তারা যে উদ্দেশ্যে মিডিয়ার সামনে তুলে ধরলো, সে উদ্দেশ্যে আপাতত তারা সাকসেস। এসিসি-আইসিসি থেকে শুরু করে সবাই ফোন করে বলছে, বাংলাদেশের ক্রিকেট নষ্ট হয়ে গেছে। তার মানে, বাংলাদেশের ইমেজ এবং ক্রিকেটের ইমেজ নষ্ট করতে সফল হয়েছে তারা।’

শেয়ার করুন