সাংবাদিক নিয়োগঃ
আজকের নোয়াখালী শিক্ষানবীশ সাংবাদিক নিয়োগ - আগ্রহীরা সিভি পাঠিয়ে দিন আমাদের মেইলঃ ajkernoakhali2019@gmail.com এ
অর্ধাঙ্গীনির কাছে একজন সৈনিকের খোলা চিঠি….

অর্ধাঙ্গীনির কাছে একজন সৈনিকের খোলা চিঠি….

.

প্রিয় মুন,

 

অনেকদিন থেকেই বলবো ভাবছি, সময় হয়ে উঠেনি। গুরুত্বপূর্ণ কথাগুলো আরো আগেই বলা উচিৎ ছিলো। যাই হোক, শুরু করি…

একজন সৈনিকের ‘আদর্শ প্রিয়তমা’ হবার প্রথম শর্ত তোমাকে অসীম ধৈর্য্যশীলা হতে হবে।

‘সহ্যের সীমা’ বলতে কিছু নেই, এটাই হতে হবে তোমার জীবনদর্শন! যদি তুমি সহ্যের সীমা ধরে বসে থাকো, তাহলেই বিপদ। কিভাবে? ধরো তুমি সারাদিন ধরে আমাকে মিস করেছো। কিন্তু আমি তোমাকে ডিউটির কারণে কোনভাবেই রেসপন্স দিতে পারিনিদিনশেষ ক্লান্ত শ্রান্ত শরীরে ঘুম ঘুম চোখে তোমার সারাদিনের মিসিং এর রেসপন্স করলাম নামমাত্র অথবা করলামই না। এক্ষেত্রে ধৈর্য্যশীল না হলে তোমার চোখের জলে বুড়িগঙ্গার কালো পানি সাদা হয়ে যাবে! তবুও আমি বেচারার কিছুই করার থাকবেনা। কারণ, ‘আগে ডিউটি, পরে প্রিয়তমা’।

তোমাকে উদার এবং উদাস হতে হবে

যদি তুমি উদার না হও তবে তোমার সৈনিক প্রিয়তমাকে জড়িয়ে যে স্বপ্নগুলো দেখবে, তার বাস্তবায়ন না করতে পারলে তোমার ভিতরের মানুষটা তোমাকে অশান্তি শুরু করতে বাধ্য করবে। তোমাকে কল্পনা করার আগেই ধরে নিতে হবে, “ওইদিন ওর ডিউটি থাকবে, আমাকে একাই থাকতে হবে”।

আর উদাস হতে হবে যাতে আমার কর্মব্যস্ততার জন্য তোমার মন খারাপ হলেও আকাশের দিকে তাকিয়ে উগান্ডা, হনুলুলু সহ সব দেশ কল্পনার রাজ্যে আমার হাত ধরে ঘুরে বেড়াতে পারো!


তোমাকে তুমুল সাহসী হতে হবে।

সাহসী না হলে, আমি যখন হন্তদন্ত হয়ে মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে কোন অপারেশনে যেতে চাইবো তখন তুমি ভয়ে কুঁকড়াবে, আবেগে কান্নাকাটি করবে। ওই সময়ে আমি তোমাকে সামলাবো নাকি ওয়ারলেসের ডাকে ছুটে যাবো? বরং আল্লাহর ভরসা করে তখন সাহসী হয়ে শক্ত গলায় তোমাকে বলতে হবে, “বেখেয়ালি হয়ো না, সাবধানে সামলে নিও”


তোমাকে অল্পতে তুষ্ট হতে হবে।

সব ব্যস্ততা ছাপিয়ে আমি যে এক ঘণ্টা সময় তোমাকে দেবো, সেটাকে একদিন ভেবে তুমুল খুশি হতে হবে! স্বামী কেন্দ্রীক অসীম চাওয়ার সীমিত পাওয়া নিয়ে আপত্তি করা যাবে না, রাগ দেখানো যাবেনা। তোমাকে মাথায় রাখতে হবে, তুমি একজন ব্যতিক্রমী পেশাধারীর প্রিয়তমা।
যিনি চাইলেও আবেগী হতে পারেননা, সময় বের করতে পারেন না। শুক্র, শনি, ঈদ বলতে যার জীবনে কিছু নেই!


তোমাকে যৌক্তিক প্রতিবাদী হতে হবে।

সৈনিকের প্রিয়তমা হবার কারণে অনেকে অনেক টিপ্পনি কাটবে। এক্ষেত্রে তোমাকে সৈনিকের সততা এবং অন্যান্য পেশার অসততা মুখস্ত থাকতে হবে! যাতে টিপ্পনি কিংবা গালির বিনিময়ে তাদের মুখটা ফ্যাঁকাসে করে দেয়া যায়!


বাহিরে যেতে পাঁচ মিনিটের মধ্যে রেডি হবার দক্ষতা থাকতে হবে।

কখন যে আমি বিনা নোটিশে ঘন্টা খানেক সময় করে তোমাকে নিয়ে বের হতে চাইবো, তার হদিস ফোন পাওয়ার আগে মিলবেনা। তখন সাজতেই যদি আধাঘণ্টা লাগাও তবে ঘুরবে কখন? এরকম আরো অনেক বিষয় আছে যে ক্ষেত্রে তোমাকে অন্যান্য নারীদের থেকে একটু বেশি এগিয়ে
থাকতে হবে।
তবে এতে এটা ভাবার কারণ নেই, একজন সৈনিককে বিয়ে করা মানে লাইফটা হেল হয়ে যাওয়া। সমস্ত ব্যস্ততা ক্লান্তি মাথায় নিয়ে যখন এই মানুষটা বলবে, “মিস ইউ, লাভ ইউ” তখন হয়তো পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী প্রিয়তমা তুমি নিজেকে ভাবতে বাধ্য হবে। সৈনিকরাও ভালোবাসে, শুধু সেই ভালোবাসা প্রকাশের জন্য কোন আয়োজন করতে পারেনা, সময়ের অভাবে। প্রিয়তমার প্রতি ভালোবাসা লুকিয়ে থাকে তাদের ইউনিফর্মের ভাজে। অনুভূতি গুলো পুড়তে থাকে ঝলমলে রোদের আলোতে। আবেগগুলো ভিজতে থাকে ঝুম বৃষ্টিতে।

ভালোবাসে, হ্যাঁ তারাও তাদের প্রিয়তমাকে ভালোবাসে। মুখে না থাকলেও অনুভূতিতে ঠিকই থাকে তার প্রিয়তমা, চোখের লেন্সে ঠিকই থাকে তার প্রিয়তমার মুখ।


সৈনিকরাও ভালোবাসে। তোমাকে শুধু শক্ত বুক বিশিষ্ট্য এই মানুষটাকে বুঝার ক্ষমতা থাকতে হবে।


আশা করি তুমি পারবে, কারণ তুমি যে একজন সৈনিকের অর্ধাঙ্গীনি…..

ইতি,

– তোমার  অর্ধাঙ্গ

 

 

আজকের নোয়াখালী’তে প্রকাশিত, লেখকের আরো একটি ছোটগল্প:  অসমাপ্ত আলিঙ্গন

.

.

শেয়ার করুন