সাংবাদিক নিয়োগঃ
আজকের নোয়াখালী শিক্ষানবীশ সাংবাদিক নিয়োগ - আগ্রহীরা সিভি পাঠিয়ে দিন আমাদের মেইলঃ ajkernoakhali2019@gmail.com এ
সোনাইমুড়িতে করোনার উপসর্গ নিয়ে ইতালি প্রবাসীর মৃত্যু, বাড়ি লকডাউন

সোনাইমুড়িতে করোনার উপসর্গ নিয়ে ইতালি প্রবাসীর মৃত্যু, বাড়ি লকডাউন

আজকের নোয়াখালী,  নিজস্ব প্রতিনিধি:

নোয়াখালীর সোনাইমুড়িতে করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে মোরশেদ আলম (৪৫) নামের এক ইতালি প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে। করোনা সন্দেহে বাড়িটি লকডাউন ঘোষণা করেছে উপজেলা প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার (০৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় সোনাইমুড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার টিনা পালের নির্দেশে বাড়িটি লকডাউন ঘোষণা করে লাল পতাকা টাঙিয়ে দেয়া হয়েছে।

নিহত মোরশেদ আলম উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড পশ্চিম চাঁদপুর গ্রামের তাজুল ইসলামের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক মাস আগে ইতালি থেকে দেশে আসেন মোরশেদ আলম। কিছুদিন আগে তিনি হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। জ্বর ও শ্বাস কষ্ট শুরু হলে তিনি স্থানীয় পল্লী চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ সেবন করেন। ১০-১২ দিন আগে তার শরীরের জ্বরের তীব্রতা বেড়ে গেলে পরিবারের লোকজন তাকে ঢাকা পাঠান। কিন্তু তিনি ঢাকা গিয়ে কোনো প্রকার চিকিৎসা না নিয়ে বাড়ি ফিরে আসেন।

নিহতের স্বজন আবদুর রাজ্জাক বলেন, মোরশেদ আলম গত কয়েকদিন ধরে সর্দি, উচ্চ মাত্রায় জ্বর ও শ্বাস কষ্টে ভুগছিলেন। বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকালে তার শরীরের অবস্থার অবনতি হলে তাকে দ্রুত নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার শরীরের আরও অবনতি ঘটলে বৃহস্পতিবার (০৯ এপ্রিল) ভোরে ঢাকা নেয়ার পথে মোরশেদ আলমের মৃত্যু হয়।

 

স্থানীয় ইউপি সদস্য (মেম্বার) রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মোরশেদ আলম দীর্ঘদিন যাবত অসুস্থ থাকলেও তিনি ভালো কোনো চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে বাড়িতে ছিলেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল থেকে ঢাকা নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়েছে।

তিনি বলেন, সন্ধ্যায় উপজেলা প্রশাসন থেকে নিহতের বাড়ি লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। ওই বাড়ির চারটি পরিবারের ২৭ জন সদস্যকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে।

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ওই প্রবাসীর প্রচণ্ড শ্বাস কষ্ট ছিল। তার ফুসফুস সঠিকভাবে কাজ করছিল না। রাতে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাতেই ঢাকায় স্থানান্তর করার পরামর্শ দেয়া হয়। কিন্তু তার পরিবারের লোকজন ভোরে তাকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

সোনাইমুড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার টিনা পাল ওই প্রবাসীর বাড়ি লকডাউনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো মোমিনুর রহমান জানান, গত নভেম্বর মাসে ইতালি থেকে মোরশেদ আলম বাড়িতে এসেছিলেন বলে জানা গেছে। তিনি কয়েকদিন ধরে সর্দি, জ্বর ও শ্বাস কষ্টে ভুগছিলেন। নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল থেকে ঢাকা নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। তার লাশ বর্তমানে ঢাকা কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে রয়েছে। নিহতের শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পরীক্ষায় করোনা পজিটিভ আসলে নিহতের লাশ ঢাকায় দাফন করা হবে। আর নেগেটিভ আসলে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

 

.

আমাদের ফেইজবুক পেইজ আজকের নোয়াখালী’তে লাইক দিয়ে সাথেই থাকুন…..

 

 

শেয়ার করুন