সাংবাদিক নিয়োগঃ
আজকের নোয়াখালী শিক্ষানবীশ সাংবাদিক নিয়োগ - আগ্রহীরা সিভি পাঠিয়ে দিন আমাদের মেইলঃ ajkernoakhali2019@gmail.com এ
১৮ মাসেই সমাধানের চিন্তা অসম্ভব

১৮ মাসেই সমাধানের চিন্তা অসম্ভব

অং সান সু চি
মিয়ানমারের গণতন্ত্রকামী নেত্রী ও ক্ষমতাসীন সরকারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চি বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকট তাঁর সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ১৮ মাসের মধ্যেই এ সংকট সমাধানের আশা করাটা তাদের জন্য হবে অযৌক্তিক।

মিয়ানমারে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রথম দ্বিপক্ষীয় সফরের প্রেক্ষাপটে অং সান সু চি এ মন্তব্য করলেন। সফরে সু চির সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মোদি মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাখাইন রাজ্যে ‘উগ্রপন্থীদের সহিংসতায়’ তাঁর দেশের উদ্বেগের কথা জানান।

বার্তা সংস্থা এএনআইকে গতকাল বৃহস্পতিবার দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সু চি বলেন, ‘এটা আমাদের সরকারের জন্য এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় সংকট। অনেক দশক ধরে রাখাইনে যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে সেটা ১৮ মাসের মধ্যে আমাদের সরকার সমাধান করবে—এটা আশা করা অযৌক্তিক। এই সংকটের শুরু প্রাক্-ঔপনিবেশিক আমলে।’

মিয়ানমারে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে ১৯৯১ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার জয় করা সু চি বলেন, তাঁর প্রশাসনের সম্পদ খুব সীমিত। এ সংকট সমাধানের যথেষ্ট সক্ষমতা তাঁর প্রশাসনের নেই। তবে তিনি বলেন, ‘আমাদের নাগরিকদের দেখভাল করা আমাদের দায়িত্ব এবং আমরা এই ব্যাপারে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। আইনগতভাবে সবাই যাতে সুরক্ষা পান সে বিষয় আমরা নিশ্চিত করতে চাই।’

গত বুধবার তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান রাখাইনে রোহিঙ্গাবিরোধী চলমান হত্যাকাণ্ডকে ‘গণহত্যা’ বলে আখ্যায়িত করলেও সু চি বলেছেন, পশ্চিমাঞ্চলীয় এ রাজ্যের সব বাসিন্দাকে রক্ষায় তাঁর সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। রাজ্যে যত দ্রুত সম্ভব শান্তি ও সম্প্রীতি ফেরাতে তাঁর সরকার জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের সুপারিশ বাস্তবায়ন করছে বলেও দাবি করেছেন সু চি। ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র ভিভিয়ান তান এএফপিকে বলেন, বাংলাদেশে চার দশক ধরে চার লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

রোহিঙ্গাদের পরিত্যক্ত গ্রামে আগুন

এপি জানায়, মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ছেড়ে যাওয়া একটি গ্রাম নতুন করে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে গতকাল বৃহস্পতিবার দেখেছেন সাংবাদিকেরা। সেই সঙ্গে মুসলমানের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরআন শরিফের পাতার ছেঁড়া টুকরা পেয়েছেন তাঁরা। মিয়ানমার সরকার দাবি করে, রোহিঙ্গারা নিজেরাই নিজেদের ঘরবাড়িতে আগুন দিয়েছে। কিন্তু তাদের পরিত্যক্ত গ্রামে নতুন করে আগুন ও কোরআনের পাতার ছেঁড়া টুকরা দেখে সরকারের দাবি নিয়ে সংশয় আরও জোরালো হয়েছে সাংবাদিকদের।

রাখাইন রাজ্যের গাউদো জারা গ্রামে সরকারিভাবে নিয়ে যাওয়া হয় ২০ জনের বেশি সাংবাদিকের একটি দলকে। সাংবাদিকদের পাঁচটি গ্রামে যেতে দেওয়া হয়; যেগুলো ছিল মূলত জনশূন্য ও ধ্বংসযজ্ঞের মূর্ত প্রতীক। কোনো রোহিঙ্গাই সেখানে ছিল না। সাংবাদিকেরা সেখানে রোহিঙ্গাদের ঘরবাড়ির পাশাপাশি একটি মাদ্রাসাও আগুনে জ্বলতে দেখেন। দেখতে পান কোরআনের ছেঁড়া পাতা। কাজেই রোহিঙ্গারা নিজেরাই নিজেদের ঘরবাড়িতে আগুন লাগিয়েছে—সরকারের এ দাবি সাংবাদিকদের পক্ষে বিশ্বাস করা কঠিন ছিল।

শেয়ার করুন