সাংবাদিক নিয়োগঃ
আজকের নোয়াখালী শিক্ষানবীশ সাংবাদিক নিয়োগ - আগ্রহীরা সিভি পাঠিয়ে দিন আমাদের মেইলঃ ajkernoakhali2019@gmail.com এ
প্রতিবাদ করলেই মামলা, গুলি করলে নেই ঝামেলা

প্রতিবাদ করলেই মামলা, গুলি করলে নেই ঝামেলা

মোঃ রাইহাতুল ইসলাম রাহাত, আজকের নোয়াখালী:

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে ছাত্রশিবিরের হামলায় ছাত্রলীগের আহত ৫ জনের মধ্যে গুলিবিদ্ধ রাকিব মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আজ সোমবার (২ মার্চ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাকিবের মৃত্যূ হয়।

উপজেলার আমানউল্যাহ পুর বাজারে গতকাল রাতে এই ঘটনা ঘটেছে। এসময় গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছেন ছাত্রলীগ কর্মী হাবিব, রনি, মনু, রায়হান।

হাসপাতালে আহতরা এবং স্থানীয়রা জানান, আমানউল্যাহ পুর বাজারের একটি চায়ের দোকানে আড্ডা দিচ্ছিলেন ছাত্রলীগ কর্মীরা। হঠাৎ রাত সাড়ে ৮টার দিকে শিবিরের কয়েকজন এসে এলোপাতাড়ি গুলি করে। এতে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে উপস্তিত লোকজন চারিদিক ছুটোছুটি করে। এর মধ্যে কয়েকজন সশস্ত্র শিবিরকর্মী দোকানে ঢুকে কুপিয়ে আহত করে ছাত্রলীগ কর্মীদের। পরে হামলাকারীরা চলে গেলে স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।

begum

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে আহত ছাত্রলীগ কর্মী

স্থানীয় ছাত্রলীগের অভিযোগ, গত ৩ দিন আগে আমানউল্যাপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের নেতা ফয়সালের বাড়িতে ঢুকে পাসপোর্ট এবং নগদ টাকা নিয়ে যায় পুলিশ। এর প্রতিবাদে রাস্তায় মিছিল করতে গেলে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের নেতা ফয়সালকে গ্রেফতার করে এবং পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করে। তাকে জেল হাজতে প্রেরন করা হয়। ওই ঘটনায় ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি হিরনকেও আসামি করা হয়।
অথচ কিছুদিন আগে জামাত-শিবিরের হামলায় ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীরা আহত হয়েছিলো। সে সময় যুবলীগ নেতা কাজল এর পায়ে গুলি লাগে এবং তিনি পা হারান। সেই ঘটনায় মামলা হলেও প্রশাসন কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
Image may contain: 3 people, people sitting

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে আহত ছাত্রলীগ কর্মীদের দেখতে যান জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি আসাদুজ্জামান আরমান।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি আসাদুজ্জামান আরমান আজকের নোয়াখালীকে বলেন, বেগমগঞ্জ উপজেলার আমানউল্যাহপুর ইউনিয়নে বিগত কিছুদিন আগেও জামাত-শিবিরের সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনীর হামলায় ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীরা আহত হয়েছিলো। সে সময় যুবলীগ নেতা কাজল এর পায়ে গুলি লাগে এবং তিনি পা হারান। সেই ঘটনায় মামলা হলেও প্রশাসন কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। কারন তারা ছাত্রলীগের নেতা নয়, তারা জামাত শিবিরের ক্যাডার। গতকাকেও (রবিবার-১ মার্চ)  জামাত-শিবিরের সশস্ত্রবাহিনীরা পূনরায় ছাত্রলীগের কর্মীদের উপর গুলি নিক্ষেপ করে। এতে ঘটনাস্থলে ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়। গুলিবিদ্ধ চার জন হল রাকিব, রায়হান, হাবিব, রনি। আজ (২ মার্চ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছাত্রলীগকর্মী রাকিবের মৃত্যূ হয়েছে। এখনো  একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আহতদের জন্য সবার নিকট দোয়া প্রার্থনাও করেন, জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি।

জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি বলেন,  পূর্বের ঘটনাগুলোর যদি বিচার হতো মামলার আসামি গ্রেপ্তার হতো আজকে হয়তো নিরীহ ছাত্রলীগ কর্মীরা জীবন দিতে হতোনা। অবিলম্বে প্রশাসনের কাছে তদন্ত করে দোষীদের উপযুক্ত বিচার দাবি করেন তিনি।

 

এদিকে বেগমগঞ্জ থানার ওসি হারুন অর রশিদ চৌধুরী আজকের নোয়াখালীকে জানান, শিবির ও ছাত্রলীগের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় পাঁচজন আহত হয়েছে। একজনের মৃত্যূ হয়েছে জানাগেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে, ঘটনার ব্যাপরে তদন্ত করে ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলেও জানান তিনি।

 

 

আমাদের ফেইজবুক পেইজ আজকের নোয়াখালী’তে লাইক দিয়ে সাথেই থাকুন….

 

 

শেয়ার করুন