সাংবাদিক নিয়োগঃ
আজকের নোয়াখালী শিক্ষানবীশ সাংবাদিক নিয়োগ - আগ্রহীরা সিভি পাঠিয়ে দিন আমাদের মেইলঃ ajkernoakhali2019@gmail.com এ
জামিনে মুক্তি পেলেই বিদেশে যাবেন খালেদা জিয়া

জামিনে মুক্তি পেলেই বিদেশে যাবেন খালেদা জিয়া

আজকের নোয়াখালী; নিজস্ব প্রতিনিধি:

কারাবন্দি খালেদা জিয়া জামিনে মুক্তি পেলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাবেন বলে জানিয়েছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ।

তিনি বলেছেন, খালেদা জিয়া অনেক বেশি অসুস্থ। তিনি ঠিকমতো উঠে দাঁড়াতে পারেন না। সুচিকিৎসার জন্য প্রয়োজনে তিনি বিদেশে যাবেন। আজ জামিন পেলে কালই তিনি ভিসার জন্য আবেদন করবেন।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। হারুনুর রশীদ ছাড়াও দলটির আরও দুই সংসদ সদস্য উকিল আবদুস সাত্তার ও আমিনুল ইসলাম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেখানে তারা প্রায় আধা ঘণ্টা অবস্থান করেন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ছয়জন নির্বাচিত হওয়ার পর তিন এমপির এটাই খালেদা জিয়ার সঙ্গে প্রথম সাক্ষাৎ। তারা তাদের নেত্রীর জন্য ফুলের তোড়া ও ফলের একটি ঝুড়ি নিয়ে যান। সাক্ষাৎ শেষে হারুনুর রশীদ সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার বর্ণনা দিতে গিয়ে কাঁদেন তিন এমপি।

খালেদা জিয়া চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে চান কি না প্রশ্ন করা হলে হারুনুর রশীদ বলেন, ‘খালেদা জিয়া চিকিৎসার সুযোগ পেলে তো অবশ্যই বিদেশ যাবেন। তিনি আজ জামিন পেলে কালই বিদেশ যাবেন। যদি আজ জামিন পান, তাহলে তার প্রথম অগ্রাধিকার হবে চিকিৎসা। কালই তিনি ভিসার জন্য আবেদন করবেন। যেরকম তার শারীরিক অবস্থা, তাতে তার চিকিৎসা বাংলাদেশে বিশেষায়িত হাসপাতালে নেই। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে কেন এই চিকিৎসার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে? এটা সারা দেশের মানুষ জানতে চায়।’

হারুন বলেন, ‘খালেদা জিয়া চরম অসুস্থ এবং হাত দিয়ে নিজের খাওয়া নিজে খেতে পারেন না। তার হাত কাঁপে। নিজের কাপড় নিজে পরতে পারেন না। এই অবস্থায় তাকে বন্দি রাখা বড় অমানবিক।’

সাংগঠনিক বিষয়ে কোনো আলাপ হয়েছে কি না প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘তিনি দলের খোঁজখবর নিয়েছেন। এক মাসে সারা দেশে বিভিন্ন বিভাগীয় সমাবেশের বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে। সরকারের বাধাবিপত্তির পরও লাখ লাখ লোক ওইসব সমাবেশে যোগ দিয়েছেন। তিনি (খালেদা জিয়া) শুধু বললেন, তোমরা সবাইকে নিয়ে দেখেশুনে একসঙ্গে থাকো। দেশে গণতান্ত্রিক অবস্থা ফিরে এলে মানুষ যেন মুক্তভাবে চলাফেরা করতে পারে, তাদের ভোটাধিকার ফিরে পায়, সেজন্য কাজ করো।’

সংসদে যোগদান নিয়ে দলের ভেতরে বিভক্তি থাকলেও আপনারা আপনাদের নেত্রীর মুক্তির বিষয়টি সামনে রেখেই সংসদে গেছেন- এ ব্যাপারে সরকারের সঙ্গে কোনো কথা হয়েছে কি না বা কোনো বার্তা নিয়ে আপনারা এসেছেন কি না প্রশ্ন করা হলে হারুনুর রশীদ বলেন, ‘আমরা সংসদে যোগদান করার পর যে কয়বার কথা বলার সুযোগ পেয়েছি তাতে নেত্রীর মুক্তির বিষয়টি অন্যতম ছিল। দলনেতা হিসেবে ইতিমধ্যে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে দুই-এক জায়গায় কথাও বলেছি, তার মুক্তির দাবিও জানিয়েছি। কিন্তু তারা আইনি ব্যাপার বলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘দেশবাসীর উদ্দেশে জানাচ্ছি, খালেদা জিয়ার জামিনের যে অধিকার, সেই অধিকার থেকে তাকে বঞ্চিত করা হয়েছে। যত দ্রুত সরকার জামিন দেবে আইনের শাসনের ক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।’

সরকারের তরফ থেকে প্যারোলের কোনো প্রস্তাবনা আছে কি না প্রশ্ন করা হলে হারুনুর রশীদ বলেন, ‘প্যারোলের বিষয়ে কোনো প্রস্তাবনা নেই। এ বিষয়টি আসবে কেন? তিনি তো জামিন পাওয়ার যোগ্য।’

দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাবন্দি। শারীরিক অসুস্থতার কারণে ১ এপ্রিল থেকে কারা হেফাজতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

শেয়ার করুন