সাংবাদিক নিয়োগঃ
আজকের নোয়াখালী শিক্ষানবীশ সাংবাদিক নিয়োগ - আগ্রহীরা সিভি পাঠিয়ে দিন আমাদের মেইলঃ ajkernoakhali2019@gmail.com এ
পাঠকদের মনে জাগ্রত হওয়া ‘মাহে রমজান বিষয়ক গুরুত্বপূর্ন প্রশ্নের সমাধান’ ২য় পর্ব

পাঠকদের মনে জাগ্রত হওয়া ‘মাহে রমজান বিষয়ক গুরুত্বপূর্ন প্রশ্নের সমাধান’ ২য় পর্ব

প্রাণঘাতী নভেল করোনা ভাইরাসের ভয়াবহ পরিস্থিতিতে দেশে পবিত্র রমজান মাসের ৭ম তম রোজা চলছে। একজন রোজাদারের সিয়াম সাধনাকে আরো সুন্দর ও পরিপূর্ণ করতে আজকের নোয়াখালী‘র পক্ষ থেকে আপনাদের মনে জাগ্রত হওয়া রমজান বিষয়ক নানা প্রশ্নের সমাধান নিয়ে আমাদের সুন্দর আয়োজন।  পাঠকদের প্রশ্ন ও প্রশ্নের সমাধান সংগ্রহ করেছেন, আমাদের বিশেষ প্রতিনিধি আবদুর রহমান

 

কোরআন ও হাদিসের রেফারেন্স সহ গুরুত্বপূর্ন প্রশ্ন সমূহের সমাধান দিয়েছেন বিশিষ্ট মিডিয়া ব্যাক্তিত্ব ও ইসলামি চিন্তাবিদ  আবু রুফাইদাহ রফিক

 

প্রশ্ন: মাহে রমজান আমাদেরকে কী শিক্ষা দেয়?

সমাধান: রোজা আমাদেরকে সবর ও সহমর্মিতার শিক্ষা দেয়। অভাবের কারণে যাদেরকে ক্ষুধার্ত থাকতে হয়, তাদের ক্ষুধার যন্ত্রণা অনুভব করে তাদেরকে আহার দিতে রোজা আমাদেরকে উদ্বুদ্ধ করে। হজরত সালমান ফারসি (রা.) থেকে বর্ণিত- নবী করীম (সা.) বলেছেন, ‘রমজান সবরের মাস আর সবরের প্রতিদান জান্নাত।’ (বায়হাকি) ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা সবর ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো।’ – সূরা আল বাকারা: ১৫৪ সুতরাং রমজানে সিয়াম সাধনা আমাদেরকে শিক্ষা দেয় সবর ও সহমর্মিতা।

 

প্রশ্ন: রোজা অবস্থায় স্ত্রীকে চুমু (kiss) খেলে বা জড়িয়ে ধরলে কোন সমস্যা আছে? যদি হ্যাঁ হয় তাহলে আবেগ না আসলে?

সমাধান: সওম অবস্থায় স্ত্রীকে জড়িয়ে ধরা কিংবা চুম্বন করা থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ এ অবস্থায় একজন পুরুষ নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলতে পারে। তবে রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সওম অবস্থায় তার কোনো কোনো স্ত্রীকে চুম্বন করেছেন বলে হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। একই হাদিসে এ কথাও উল্লেখ আছে যে, রাসুল নিজের জৈবিক চাহিদাকে যতটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারতেন, তোমাদের পক্ষে তা সম্ভব নাও হতে পারে। (বুখারী, ৩০/২৩)।

 

প্রশ্ন: তারাবীর সম্পর্কে কেউ কেউ বলেন যে, এই নামায আট রাকাত। বিশ রাকাত তারাবীর কোনো প্রমাণ নেই। জানতে চাই, তাদের দাবির সত্যতা কতটুকু?

সমাধান: রাসুল সাল্লালাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বিশ রাকাত নয়, বরং আট রাকাত তারাবির প্রমাণ রয়েছে। বিশ রাকাত তারাবির প্রচলন ওমর রা. এর সময় থেকে শুরু হয়েছিল। সুতরাং কেউ ইচ্ছে করলে আট কিংবা বিশ রাকাত পড়তে পারে। এ নিয়ে বিতর্ক করা উচিৎ হবেনা। মনে রাখতে হবে, নফল নামাজে রাকাতের সংখ্যা গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং নামাজে কত দীর্ঘ কেরাত পড়া হয় এবং কত ধীরেসুস্থে বিনয়ের সাথে পড়া হয়, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে উত্তম সালাত সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি জবাব দেন, ‘তূলুল কুনূত’ তথা দীর্ঘ সময় বিশিষ্ট সালাত (মুসলিম)। তারাবির নামাজও নফল। তাই তাড়াহুড়ো করে বিশ রাকাত পড়ার চেয়ে ধীরেসুস্থে মনোযোগ দিয়ে আট রাকাত পড়াই উত্তম। কেউ বিশ রাকাত পড়তে চাইলে অবশ্যই ধীরেসুস্থে পড়তে হবে।

 

প্রশ্ন: একজন অমুসলীম ভাই প্রশ্ন করেছেন। মুসলিমরা রোযার মাসে জোর করে হোটেল-রেঁস্তোরা বন্ধ রাখে। যারা রোযা করে না তাদের উপর এটা জুলুম নয় কি?

সমাধান:   যে সমাজে রোজাদারের সংখ্যা বেশি, সেখানে হোটেল রেস্তোরাঁ বন্ধ রাখাই যুক্তিযুক্ত। তবে অমুসলিমদের জন্য সীমীত আকারে খাবরের দোকান খোলা রাখার জন্য নিষেধ করা হয় না। আর যেখানে মুসলিমরা সংখ্যালঘু, সেখানে খাবারের দোকান বন্ধ রাখতে চাপ প্রয়োগ করবে কে?

 

প্রশ্ন: রোযা থেকে একজন মানুষ পানিশূন্যতায় ভোগার কথা নয় কি?

সমাধান: আমাদেরকে মনে রাখতে হবে, সিয়াম একটা ইবাদত। যা আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় আমরা পালন করি। এখানে কষ্ট কতটুকু সেটা বিবেচনায় নিয়ে আমরা এ ইবাদত পালন করিনা। আমাদের বিবেচনার বিষয় হচ্ছে আল্লাহর সন্তোষ অর্জন। কিন্তু যারা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস রাখেনা, তারা পার্থিব স্বার্থ ছাড়া অন্য চিন্তা করতে পারেনা। সুতরাং তাদের কাছ থেকে এমন অবান্তর প্রশ্ন আসাই স্বাভাবিক। তারপরও বলবো, একজন সুস্থ মানুষ সিয়াম সাধনার কারণে বড় ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে, এমন প্রমাণ নেই। ইসলাম সামর্থ্যের বাইরে কাউকে কিছু করতে বলেনা। এ জন্য অসুস্থ, বয়স্ক এবং মুসাফিরের জন্য রমজানের সওম না রাখার সুযোগ দিয়েছে। কোন সুস্থ ব্যক্তিও যদি দিনের মাঝখানে এসে পানি শূন্যতায় ভোগে এবং তার মারাত্মক ক্ষতি হওয়ার আশংকা দেখা দেয়, তবে সে রোজা ভাঙ্গতে পারবে এবং পরে কাজা করে দিতে পারবে। সুতরাং আর কোন প্রশ্ন থাকতে পারেনা।

 

প্রশ্ন: মানুষ যদি কখনো চাঁদে বা মঙ্গলে কিংবা অন্য কোনো দূরবর্তী গ্রহের উপর বসতি স্থাপন করে তখন তারা কেমন করে রোযা করবে? চাঁদের মাটিতে থেকে কি চাঁদ দেখে রোযা/ঈদ করা সম্ভব?

সমাধান: ইসলামের বিধানগুলো দুনিয়ার অধিবাসীদের জন্য, চাঁদ বা অন্য গ্রহের অধিবাসীদের জন্য নয়। আল্লাহ সবকিছুর স্রষ্টা, তিনিই ভালো জানেন মানুষ কোথায় বসবাস করার ক্ষমতা রাখে। আশা করি দুনিয়া ছেড়ে স্থায়ীভাবে অন্য গ্রহে বসবাস করার কোনো সুযোগ কখনো হবেনা। সুতরাং এ প্রশ্ন অবান্তর মনে হয়। তারপরও প্রশ্নকারীকে এতটুকু বলতে পারি যে, আগে সেখানে গিয়ে কোন মুসলিম বসবাস করা শুরু করুক, তারপর না হয় ফতোয়া দেওয়া যাবে। প্রতিটি নতুন সমস্যার সমাধান কিয়াস এবং ইজমার ভিত্তিতে করার সুযোগ ইসলামে রয়েছে।

 

.
 
আপনাদের মনে জাগ্রত হওয়া রমজান বিষয়ক যে কোন প্রশ্ন আমাদের লিখে পাঠান। আমরা কোরআন ও হাদিসের রেফারেন্স সহ হক্বানী আলেমদের কাছ থেকে সমাধান সংগ্রহ করে প্রচার করবো… ইনশাহআল্লাহ।
.
আমাদের কাছে দুই ভাবে লিখতে পারেন, ইমেইল অথবা মেসেঞ্জার।
.
মেসেঞ্জার আজকের নোয়াখালী
মেইলঃ ajkernoakhali2019@gmail.com

শেয়ার করুন