সাংবাদিক নিয়োগঃ
আজকের নোয়াখালী শিক্ষানবীশ সাংবাদিক নিয়োগ - আগ্রহীরা সিভি পাঠিয়ে দিন আমাদের মেইলঃ ajkernoakhali2019@gmail.com এ
বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার আগেই রিয়ালে যেতে চান নেইমার!

বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার আগেই রিয়ালে যেতে চান নেইমার!

নেইমার বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার আগেই রিয়ালে যেতে চান। এটাই নাকি তাঁর আসল গন্তব্য
গুঞ্জন শেষ হইয়াও হইল না শেষ! ক্লাব সভাপতি নাসের আল খেলাইফি বলেছেন। বলেছেন নেইমারও। তবু নতুন করে গুঞ্জনটা উঠল। পরের মৌসুম নয়, এই মৌসুমেই রিয়াল মাদ্রিদে যেতে চান নেইমার। বিশ্বকাপ ফাইনালের আগেই এই দল বদল চূড়ান্ত করতে চান তিনি। এমন খবর দিয়েছে গোল ডটকম।
পিএসজি নয়; নেইমারের আসল গন্তব্য রিয়ালই। সরাসরি বার্সেলোনা থেকে রিয়ালে গেলে এর প্রতিক্রিয়া হতো ভয়াবহ। সেটির মাত্রা কমাতেই নেইমার নাকি একটু ঘুরপথে রিয়ালে আসতে চান। মেসি যদিও বলেছেন, নেইমারকে রিয়ালের জার্সি পরে খেলতে দেখা তাঁর জন্য হবে ভয়াবহ এক অভিজ্ঞতা। কিন্তু বিষয়টি নতুনও নয়। ব্রাজিল কিংবদন্তি রোনালদোও এমন ঘুরপথে বার্সা থেকে রিয়ালে নাম লিখিয়েছিলেন। সেই পথ অনুসরণ করতে চান নেইমার।
নেইমারের এই চাওয়ার কথা ভালো করে জানেন তাঁর এজেন্ট পিনি জাহাভি। জাহাভি এরই মধ্যে রিয়াল সভাপতির সঙ্গে দেখা করেছেন। গত ১৩ মে দুজনের বৈঠক হয়েছে। এরপর দিন নেইমারের আইনজীবী ও তাঁর বাবার সঙ্গে বৈঠক হয়েছে জাহাভির। নেইমারের বাবাই নাকি এই দলবদলে বেশি আগ্রহী। এর একটা কারণ হতে পারে, আরও একটি দলবদল মানে নেইমারের বাবার ব্যাংক হিসাবে আরও বড় অঙ্কের কমিশন যোগ হওয়া। রিয়ালে যদি যেতেই হয়, দেরি কেন!
জাহাভি পিএসজিকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে রবার্ট লেভানডফস্কিকে এনে দেবেন বলে কথা দিয়েছেন। পিএসজি অবশ্য যেকোনো অবস্থায় ২০২২ পর্যন্ত নেইমারকে ধরে রাখতে বদ্ধপরিকর। অন্তত নেইমারকে এই মৌসুমে চায় পিএসজি।
ক্লাবের চেয়ারম্যান খেলাইফি এর আগে জোর গলায় বলেছেন নেইমার প্যারিসে থাকছেন এটি ২০০০ শতাংশ নিশ্চিত। কিন্তু এর মধ্যে তাঁরও সুর নরম হয়ে গেছে। খেলাইফি পরে লেকিপকে বলেছেন, ‘কোনো ব্যক্তি বা কোনো কিছুই ক্লাবের চেয়ে বড় নয়। সেটা খেলোয়াড় হোক, কিংবা কোচ। ক্লাবই সবার চেয়ে বড়, ক্লাবকেই সবচেয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে। এটা যদি কেউ মানতে না চায়, কেউ যদি এতে খুশি না থাকে, তাহলে সে ক্লাব ছাড়তে পারে।’
গত মৌসুমের আগে বার্সেলোনা থেকে ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত দলবদলের ঘটনা জন্ম দিয়ে বার্সেলোনা থেকে নেইমারকে নিয়ে আসে পিএসজি। নেইমারের বাই আউট ক্লজের ২০০ মিলিয়ন ইউরোর পুরোটাই পরিশোধ করে দেয় তারা। ফ্রান্সের ফুটবলে বাই আউট ক্লজ নেই। নেইমার পিএসজির অনুমতি ছাড়া ক্লাব ছাড়তে চাইলে সেটি হবে চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন। কিন্তু কোনো খেলোয়াড়কে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করেও আটকে রাখা যায় না। এতে তার কাছ থেকে ক্লাব শতভাগ পায় না।
এমনিতেই নেইমারের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে, নেইমার নিজের জন্য খেলেন নাকি ক্লাবের জন্য। পিএসজিকে এখনো নিজের রক্তের সঙ্গে নেইমার মিশিয়ে নিতে পারেননি। ক্লাবের লিগ শিরোপা জয়ের উৎসবেও তাঁকে যোগ দিতে দেখা যায়নি। নেইমার অবশ্য তখন ব্রাজিলে নিজের পুনর্বাসনে ছিলেন। কিন্তু এ নিয়ে বিতর্ক হয়েছে। ফ্রান্সের বিশ্বকাপজয়ী খেলোয়াড় ক্রিস্তোফে দুগারে অভিযোগ করেছেন, নেইমার ক্লাবের মুখে থুতু দিয়েছেন।
নেইমার পরে ক্লাবের কাপ শিরোপা জয়ের উৎসবে যোগ দিয়েছেন। ফ্রান্সের বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার নিতে গিয়ে বলেছেন, তাঁকে নিয়ে প্রতিবারই এমন গুঞ্জন হয়। এতে তিনি বিরক্ত ও ক্লান্ত। কিন্তু গুঞ্জন কেন হয়, সেটি নেইমারও ভালো জানেন। আর তাই গুঞ্জন থামিয়ে দিয়েও গুঞ্জন শেষ হচ্ছে না। ২০১৮-১৯ মৌসুমে নেইমারের গায়ে সাদা জার্সি দেখতে পেলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

শেয়ার করুন