সাংবাদিক নিয়োগঃ
আজকের নোয়াখালী শিক্ষানবীশ সাংবাদিক নিয়োগ - আগ্রহীরা সিভি পাঠিয়ে দিন আমাদের মেইলঃ ajkernoakhali2019@gmail.com এ
রেললাইনে দিনে দুজনের মৃত্য!

রেললাইনে দিনে দুজনের মৃত্য!

সারা দেশে গত সাত মাসে রেললাইনে মৃত্যু হয়েছে ৫৭০ জনের। ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে বা ট্রেনের ধাক্বায় প্রাণ হারিয়েছে তারা। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে গড়ে প্রতিদিনই রেললাইনে অন্তত দুজনের মৃত্যু হচ্ছে।

রেল পুলিশ বলছে, প্রধানত তিনটি কারণে রেললাইনে প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। এর মধ্যে রয়েছে রেললাইনে বসে আড্ডা দেওয়া, কানে ইয়ারফোন লাগিয়ে বা মুঠোফোনে কথা বলতে বলতে হাঁটা এবং ট্রেন আসতে দেখেও দ্রুত পার হওয়ার চেষ্টা করা। রেললাইনে মৃত্যুর ৯০ শতাংশ ঘটনার জন্য এই তিন কারণ দায়ী। দেশের তিনটি এলাকার রেললাইনে মৃত্যুর ঘটনা সবচেয়ে বেশি। ঢাকার তেজগাঁও থেকে বিমানবন্দর স্টেশন, চট্টগ্রামের মিরসরাই থেকে সীতাকুণ্ড এবং নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা।

শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত ওই তিন এলাকায় রেললাইনের আশপাশে শ্রমিক ও নিম্ন আয়ের লোকজন বাস করে। তাদের বড় একটা অংশের অবসর কাটে রেললাইনকে ঘিরে। বিকেল হলে এসব এলাকার রেললাইনে আড্ডা জমে। তখন অসতর্ক অবস্থায় থাকে লোকজন। হঠাৎ ছুটে আসা ট্রেন কেড়ে নিচ্ছে কারও না কারও প্রাণ। গত ২৭ জুলাই থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত ২২ দিনে শুধু সীতাকুণ্ড এলাকার রেললাইনে মারা গেছে ছয়জন।

২৪ আগস্ট বিকেল সাড়ে পাঁচটা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত আধা ঘণ্টা সীতাকুণ্ডের কুমিরা ইউনিয়নের মাজারগেট এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম রেললাইনের পাশে অবস্থান করেন প্রথম আলোর

সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি। ওই সময়ের মধ্যে নারী, শিশুসহ মোট ৪৮ জন রেললাইন দিয়ে হেঁটে যান। তাঁদের মধ্যে চারজন হাঁটার সময় মুঠোফোনে কথা বলছিলেন। এ ছাড়া ১৬ জন ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে রেললাইনে বসে গল্প করছিলেন।

রেললাইনে বসে গল্প করা এবং হেঁটে পার হওয়া ১০ জনের সঙ্গে কথা হয় প্রথম আলোর। তাঁদের একজন শহীদুল ইসলাম। রেললাইনের পাশের সীতাকুণ্ডের একটি সিমেন্ট কারখানায় কাজ করেন তিনি। শহীদুল বলেন, বিকেলে হাঁটতে বের হয়েছেন। একই কথা বলেন রেললাইনের পাশের আরেকটি কারখানার নিরাপত্তা প্রহরী অচিম উদ্দিন।

শামসুল আলম নামের আরেক ব্যক্তি বলেন, তাঁর বাসা (সীতাকুণ্ডের মাজারগেট এলাকা) থেকে পাশের কুমিরা বাজারে যেতে হলে রেললাইন ধরে অন্তত ২০০ মিটার হাঁটতে হয়। রেললাইনে হাঁটা ছাড়া বিকল্প কোনো রাস্তা নেই।

গত ২৭ জুলাই সীতাকুণ্ড রেলস্টেশনের কাছে ট্রেনের ধাক্কায় নিহত হন মো. মোস্তফা (৫০) নামের এক ব্যক্তি। তাঁর ছেলে মো. সালাউদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, সেদিন গরুর জন্য ঘাস কাটতে রেললাইনের পাশে যান তাঁর বাবা। তিনি কানে কম শুনতেন। ট্রেনের ধাক্কায় মারা যায়।

বিকেল হলেই রেললাইনে মানুষের হাঁটাচলা, আড্ডা বেড়ে যায় বলে জানান সীতাকুণ্ডের কুমিরা স্টেশনের পয়েন্টসম্যান সাজেদ আহম্মদ। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, সরে যেতে বললেও লোকজন কথা শোনে না।

রেলওয়ের আইন অনুযায়ী রেললাইনের ওপর চলাচল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এদিকে ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যুর ঘটনা কমাতে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালাচ্ছে রেল পুলিশ। মুঠোফোনে কথা বলতে বলতে রেললাইন পার হওয়া এবং রেললাইনে বসে আড্ডা দেওয়ার কারণে ১ থেকে ১৮ আগস্ট পর্যন্ত থেকে সীতাকুণ্ড থেকে ৯৭ জনকে আটক করে পুলিশ। ভবিষ্যতে রেললাইনের ওপর আড্ডা দেবে না কিংবা হাঁটবে না—এই মুচলেকা নিয়ে আটক ব্যক্তিদের পরে ছেড়ে দেওয়া হয়।

রেললাইন বা ব্যস্ত সড়ক পারাপারের সময় ফোনে কথা বলা উচিত নয় বলে জানান মনোরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মোহিত কামাল। তিনি বলেন, হাঁটার সময় মোবাইল ফোনে গুরুত্বপূর্ণ বা আবেগতাড়িত কোনো কথা বললে আশপাশের বিষয়ের প্রতি একজন ব্যক্তির পরিপূর্ণ সচেতনতা থাকে না। যে কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়।

রেলওয়ে পুলিশের দাবি, ব্যাপক প্রচারণার পরও রেললাইনে অস্বাভাবিক মৃত্যুর হার কমছে না। এ ধরনের মৃত্যু ঠেকাতে রেললাইনের আশপাশের মানুষকে সচেতন করতে প্রচারপত্র বিলি, মাইকিং, বিভিন্ন স্টেশন এলাকায় সভার আয়োজন করা হচ্ছে।

পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চল—এই দুই ভাগে রেলওয়ে বিভক্ত। ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের আওতাধীন। পূর্বাঞ্চলের রেললাইনে সাত মাসে ৪৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে পশ্চিমাঞ্চলের রেললাইনে মারা গেছে ১৩১ জন। রাজশাহী, রংপুর, বরিশাল ও খুলনা বিভাগ নিয়ে গঠিত রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চল গঠিত।

রেলওয়ে পুলিশের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত সাত মাসে পূর্বাঞ্চলের রেললাইনে বসে আড্ডা ও হাঁটার সময় মৃত্যু হয়েছে ১৬৫ জনের। ট্রেন আসছে দেখার পরও দ্রুত রেললাইন পার হতে গিয়ে মারা গেছে ২২০ জন। কানে ইয়ারফোন লাগিয়ে রেললাইনে হাঁটার সময় প্রাণ গেছে ২৬ জনের। ২৮ জন মারা গেছেন অন্য কোনো কারণে (যেমন-আত্মহত্যা, ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে যাওয়া, স্টেশন বা প্লাটফরমে লাশ পাওয়া)।

রেললাইনে মৃত্যুর হার কমিয়ে আনতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা রেল পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা এক থেকে দেড়।

শেয়ার করুন