সাংবাদিক নিয়োগঃ
আজকের নোয়াখালী শিক্ষানবীশ সাংবাদিক নিয়োগ - আগ্রহীরা সিভি পাঠিয়ে দিন আমাদের মেইলঃ ajkernoakhali2019@gmail.com এ
‘ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশানাল’ নোয়াখালী জেলা শাখার পক্ষ থেকে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বরাবর স্মারকলিপি প্রদান নোয়াখালীতে ছাত্রলীগের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল নোয়াখালীতে ৩খুনের মামলার আসামী গ্রেফতার ও বিচারের দাবীতে মানববন্ধন ব্যারিস্টার মওদুদের মৃত্যুতে নোয়াখালী বিভাগ আন্দোলনের শোক বার্তা মারা গেছেন বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ইতালীর হাসপাতালে মারা গেলেন নোয়াখালীর আনোয়ারা বেগম নোয়াখালীতে মেয়রের গ্রেফতারের দাবিতে হেফাজতের বিক্ষোভ সমাবেশ নোয়াখালীতে করোনা টিকা প্রয়োগ শুরু, প্রথম টিকা নেবেন এমপি একরাম ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন এর চাটখিল উপজেলা শাখার কমিটি ঘোষণা ‘অবশেষে হরতাল প্রত্যাহার’ করলেন বসুরহাট পৌরসভার আলোচিত মেয়র আবদুল কাদের মির্জা
মারা গেছেন বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ

মারা গেছেন বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ আর নেই (ইন্না লিল্লাহহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে ও সিঙ্গাপুর সময় ৮টা ৩০ মিনিটে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বর্ষীয়ান এই নেতা।

গত ২৯ ডিসেম্বর অসুস্থ হয়ে রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে সিসিইউ-তে ভর্তি হন মওদুদ আহমদ। তাঁর রক্তের হিমোগ্লোবিন কমে গিয়েছিল। পরে কিছুটা সুস্থ হন তিনি। সেখানে দুবার কভিড-১৯ পরিক্ষা করা হয়েছিল এবং প্রতিবারই করোনা নেগেটিভ রিপোর্ট পাওয়া যায়। সেখানে তার হার্টে ব্লক ধরা পড়ায় তার হৃদযন্ত্রে স্থায়ী পেসমেকার বসানো হয়।

১৩ জানুয়ারি সিসিইউ থেকে তাকে কেবিনে স্থানান্তর করা হয়। কিছুটা সুস্থ হলে ২০ জানুয়ারি হাসপাতাল থেকে তাঁকে বাসায় নেওয়া হয়। এরপর আবার ২১ জানুয়ারি তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ২ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টায় সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে তিনি দেশ ছাড়েন। মওদুদের সঙ্গে সিঙ্গাপুরে যান তাঁর সহধর্মিনী হাসনা জসিমউদদীন মওদুদ আহমদ।

মওদুদ আহমেদের জন্ম ১৯৪০ সালের ২৪ মে নোয়াখালী জেলার কোম্পানিগঞ্জ উপজেলায়। তার বাবা মমতাজ উদ্দিন আহমেদ এবং মা বেগম আম্বিয়া খাতুন। ছয় ভাইবোনের মধ্যে মওদুদ আহমেদ চতুর্থ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মান পাস করে বৃটেনের লন্ডনে লিঙ্কন্স ইন থেকে ব্যারিস্টার ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। লন্ডনে পড়াশোনা করে দেশে ফিরে নিজেকে আইন পেশায় নিয়োজিত করেন। এছাড়া তিনি ব্লান্ড ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত ছিলেন তিনি।

ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী। এর আগে উপ-প্রধানমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম। অষ্টম জাতীয় সংসদে আইন ও বিচার বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী ছিলেন প্রবীণ এই রাজনীতিবিদ।

১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে ব্যারিস্টার মওদুদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৭১ সালে ইয়াহিয়া খান কর্তৃক আহুত গোলটেবিল বৈঠকে তিনি শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে উপস্থিত ছিলেন।

১৯৭৭ থেকে ৭৯ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সরকারের মন্ত্রী ও উপদেষ্টা ছিলেন মওদুদ। ১৯৭৯ সালে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং তাকে উপ-প্রধানমন্ত্রী করা হয়। ১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমান নিহত হন এবং এক বছরের ভেতর হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ রাষ্ট্রক্ষমতা গ্রহণ করেন। ১৯৮৫ সালের নির্বাচনে মওদুদ আহমেদ আবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং সরকারের তথ্য মন্ত্রীর দায়িত্ব পান।

এর এক বছর পর ১৯৮৬ সালে তাকে আবারও উপ-প্রধানমন্ত্রী করা হয়। ১৯৮৮ সালে তিনি প্রধানমন্ত্রী হন। ১৯৮৯ সালে তাকে শিল্প মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং এরশাদ তাকে উপ-রাষ্ট্রপতি করেন। ১৯৯০ সালের ডিসেম্বরে জনরোষের মুখে ক্ষমতা ছেড়ে দেয় এরশাদ সরকার। এরপর জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন নিয়ে ১৯৯১ সালের আবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মওদুদ আহমেদ।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে মওদুদ আহমেদ বিএনপিতে যোগ দেন। ২০০১ সালে নির্বাচনে তিনি বিএনপি থেকে মনোনয়ন নিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পাঁচবারই মওদুদ আহমেদ নোয়াখালী জেলার কম্পানীগঞ্জ উপজেলা থেকে নির্বাচিত হন।

মন্ত্রীত্ব ছাড়াও মওদুদ আহমেদ জিয়াউর রহমানকে বিএনপি প্রতিষ্ঠায় সাহায্য করেন। তিনি দলটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। তিনি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের জাতীয় পার্টির সংগঠনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

শেয়ার করুন