সাংবাদিক নিয়োগঃ
আজকের নোয়াখালী শিক্ষানবীশ সাংবাদিক নিয়োগ - আগ্রহীরা সিভি পাঠিয়ে দিন আমাদের মেইলঃ ajkernoakhali2019@gmail.com এ
‘ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশানাল’ নোয়াখালী জেলা শাখার পক্ষ থেকে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বরাবর স্মারকলিপি প্রদান নোয়াখালীতে ছাত্রলীগের উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল নোয়াখালীতে ৩খুনের মামলার আসামী গ্রেফতার ও বিচারের দাবীতে মানববন্ধন ব্যারিস্টার মওদুদের মৃত্যুতে নোয়াখালী বিভাগ আন্দোলনের শোক বার্তা মারা গেছেন বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ইতালীর হাসপাতালে মারা গেলেন নোয়াখালীর আনোয়ারা বেগম নোয়াখালীতে মেয়রের গ্রেফতারের দাবিতে হেফাজতের বিক্ষোভ সমাবেশ নোয়াখালীতে করোনা টিকা প্রয়োগ শুরু, প্রথম টিকা নেবেন এমপি একরাম ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন এর চাটখিল উপজেলা শাখার কমিটি ঘোষণা ‘অবশেষে হরতাল প্রত্যাহার’ করলেন বসুরহাট পৌরসভার আলোচিত মেয়র আবদুল কাদের মির্জা
যাকাতের সর্বনিম্ন পরিমাণ ও বন্টনের খাতসমূহ

যাকাতের সর্বনিম্ন পরিমাণ ও বন্টনের খাতসমূহ

.
যাকাতের নিসাব, যাকাতযোগ্য সম্পত্তির বিবরণ, তার নিসাব বা সর্বনিম্ন পরিমাণ ও যাকাত আদায়ের হার সংক্রান্ত চার্ট নিম্নরূপ। যাকাতযোগ্য সম্পত্তির বিবরণ যাকাতের নিসাব (ন্যূনতম যে পরিমাণ ধন-সম্পদ থাকলে যাকাত আদায় করা ফরজ) 
.
.
১.  হাতে রক্ষিত অথবা ব্যাংকে নগদ গচ্ছিত অর্থ, শেয়ার সার্টিফিকেট, প্রাইজবন্ড ও সার্টিফিকেট সমূহ: ৫২.৫ তোলা রূপা বা তার সমপরিমাণ বাজার মূল্য। মোট অর্থের শতকরা ২.৫%।
২.  স্বর্ণ/রৌপ্য, মূল্যবান ধাতু ও স্বর্ণ বা রৌপ্যের অলংকার: ৭.৫ তোলা স্বর্ণ কিংবা ৫২.৫ তোলা রৌপ্য অথবা সমপরিমাণ অর্থ। আদায়কালীন বাজার মূল্য অনুযায়ী মোট অর্থের শতকরা ২.৫%।
৩.  বাণিজ্যিক সম্পদ ও শিল্পজাত ব্যবসায় প্রতিশ্রুত লভ্যাংশের ভিত্তিতে প্রদত্ত অর্থ: ৫২.৫ তোলা রূপার মূল্য। আদায়কালীন বাজার মূল্যের শতকরা ২.৫%।
৪. উৎপাদিত কৃষিজাত ফসল:   বৃষ্টির পানিতে উৎপাদিত ফসলের উপর ১/১০ অংশ, সেচে উৎপাদিত জমিরফসলের ১/২০ অংশ অথবা শস্যের বাজার মূল্যের সমপরিমাণ প্রতি মৌসুমে আদায়যোগ্য।
৫. পশু সম্পদ (ক) ভেড়া বা ছাগল প্রভৃতি:  ১ থেকে ৩৯টি পর্যন্ত যাকাত প্রযোজ্য নয়। ৪০ থেকে ১২০টি, ১টি ভেড়া/ছাগল ১২১ থেকে ২০০টি ২টি ভেড়া/ছাগল ২০১ থেকে ৩০০টি ৩টি ভেড়া/ছাগল এর অতিরিক্ত প্রতি ১০০টির যাকাত ১টি করে ভেড়া/ছাগল।
(খ) গরু, মহিষ ও অন্যান্য গবাদি পশু:  ১থেকে ২৯টি পর্যন্ত যাকাত প্রযোজ্য নয়। ৩০ থেকে ৩৯টি এক বছর বয়সী ১টি বাছুর ৬০টি এবং ততোধিক প্রতি ৩০টির জন্য ১ বছর বয়সী এবং প্রতি ৪০টির জন্য ২ বছর বয়সী বাছুর।
(গ) ব্যবসার উদ্দেশ্যে মৎস্য চাষ, হাঁস-মুরগী পালন এবং ব্যবসার উদ্দেশ্যে ক্রয়কৃত জমি, নির্মিত বাড়ী প্রভৃতির বাজার মূল্যের হিসাব :  ৫২.৫ তোলা রূপার মূল্য। তবে বাজার মূল্যের ২.৫% অর্থ।
৬. খণিজ দ্রব্য: যে কোন পরিমাণ। উত্তোলিত খণিজ দ্রব্যের শতকরা ২০ ভাগ।
৭. প্রভিডেন্ট ফান্ডঃ সরকারী প্রতিষ্ঠানে বা যে সকল কর্পোরেশনে সরকারী নিয়মানুযায়ী প্রভিডেন্ট ফান্ড কর্তন করা হয়, উক্ত প্রভিডেন্ট ফান্ডের কর্তৃনকৃত টাকার উপর যাকাত ওয়াজিব হবে না। তবে এই টাকা গ্রহণ করার পর একবছর পূর্ণ হলে সম্পূর্ণ টাকার উপর যাকাত প্রদান করতে হবে। ৫২.5 তোলা রূপার মূল্য। শতকরা ২.৫ ভাগ।
৮. কোন বেসরকারী প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির উদ্যোগে প্রভিডেন্ট ফান্ড গঠন করা হলে প্রতি বছর তার উপর যাকাত দিতে হবে:  ৫২.৫ তোলা রূপার মূল্য। শতকরা ২.৫ ভাগ। 
.
বি.দ্র:  নিসাব পরিমাণ মালের মালিক হওয়ার দিন থেকে এক বছর পুর্তির পর যাকাত ফরয হয়
যাকাতের সম্পদ সঠিকভাবে বন্টন করার উপর অধিক গুরত্ব দেয়া হয়েছে। এই কারণে আল্লাহপাক নিজেই যাকাত ব্যয় বন্টনের খাত নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন।  যাকাত কেবল নি:স্ব, অভাবগ্রস্থ ও তৎসংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের জন্য, যাদের চিত্ত আকর্ষণ করা হয় তাদের জন্য, দাস মুক্তির জন্য, ঋণগ্রস্থদের জন্য, আল্লাহর পথে সংগ্রামকারী ও মুসাফিরদের জন্য। এটা আল্লাহর বিধান। খাতের বাইরে অন্য কোন খাতে যাকাতের অর্থ ব্যয় করা যাবে না।
.
নিম্নে পবিত্র কুরআনে বর্ণিত উলেস্নখিত ৮টি খাতের বর্ণনা দেয়া হলোপ্রথম খাত ফকীর:  ফকীর হলো সেই ব্যক্তি যার নিসাব পরিমাণ সম্পদ নেই। যে ব্যক্তি রিক্তহস্ত, অভাব মেটানোর যোগ্য সম্পদ নেই, ভিক্ষুক হোক বা না হোক, এরাই ফকীর। যে সকল স্বল্প সামর্থ্যের দরিদ্র মুসলমান যথাসাধ্য চেষ্ট করা সত্ত্বেও বা দৈহিক অক্ষমতাহেতু প্রাত্যহিক ন্যায়সঙ্গত প্রয়োজনটুকু মেটাতে পারে না, তারাই ফকীর। কারও মতে যার কাছে একবেলা বা একদিনের খাবার আছে সে ফকীর।
দ্বিতীয় খাত মিসকীন:  মিসকীন সেই ব্যক্তি যার কিছুই নেই, যার কাছে একবেলা খাবারও নেই। যে সব লোকের অবস্থা এমন খারাপ যে, পরের নিকট সওয়াল করতে বাধ্য হয়, নিজের পেটের আহারও যারা যোগাতে পারে না, তারা মিসকীন। মিসকীন হলো যার কিছুই নেই, সুতরাং যার কাছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত নিসাব পরিমাণ অর্থ সম্পদ নেই, তাকে যাকাত দেয়া যাবে এবং সেও নিতে পারবে। তবে লক্ষ্য রাখতে হবে, ফকীর বা মিসকীন যাকেই যাকাত দেয়া হবে, সে যেন মুসলমান হয় এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ত নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক না হয়।
তৃতীয় খাত আমেলীন:  ইসলামী সরকারের পক্ষে লোকদের কাছ থেকে যাকাত, উসর প্রভৃতি আদায় করে বায়তুল মালে জমা প্রদান, সংরক্ষণ ও বন্টনের কার্যে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গ। এদের পারিশ্রমিক যাকাতের খাত থেকেই আদায় করা যাবে। কুরআনে বর্ণিত আটটি খাতের মধ্যে এ একটি খাতই এমন, যেখানে সংগৃহীত যাকাতের অর্থ থেকেই পারিশ্রমিক দেয়া হয়। এ খাতের বৈশিষ্ট্য হলো এতে ফকীর বা মিসকীন হওয়া শর্ত নয়। পক্ষান্তরে, অবশিষ্ট ৫টি খাতে দরিদ্র ও অভাবগ্রস্থ দূরীকরণে যাকাত আদায় শর্ত।
চতুর্থ খাত মুআল্লাফাতুল কুলুব (চিত্ত জয় করার জন্য):  নতুন মুসলিম যার ঈমান এখনও পরিপক্ক হয়নি অথবা ইসলাম গ্রহণ করতে ইচ্ছুক অমুসলিম। যাদের চিত্ত (দ্বীন ইসলামের প্রতি আকর্ষণ করে) আকর্ষণ ও উৎসাহিত করণ আবশ্যকীয় মনে করে যাকাত দান করা হয়, যাতে তাদের ঈমান পরিপক্ক হয়। এ খাতের আওতায় দুঃস্থ নওমুসলিম ব্যক্তিদের যাকাত প্রদানের ব্যাপারে ফকিহগণ অভিমত প্রদান করেছেন।
পঞ্চম খাত ক্রীতদাস/বন্দী মুক্তি:  এ খাতে ক্রীতদাস-দাসী/বন্দী মুক্তির জন্য যাকাতের অর্থ ব্যয় করা যাবে। অন্যায়ভাবে কোন নিঃস্ব ও অসহায় ব্যক্তি বন্দী হলে তাকেও মুক্ত করার জন্য যাকাতের অর্থ ব্যয় করা যাবে।
ষষ্ঠ খাত ঋণগ্রস্থ: এ ধরণের ব্যক্তিকে তার ঋণ মুক্তির জন্য যাকাত দেয়ার শর্ত হচ্ছে- সেই ঋণগ্রস্থের কাছে ঋণ পরিশোধ পরিমাণ সম্পদ না থাকা। আবার কোন ইমাম এ শর্তারোপও করেছেন যে, সে ঋণ যেন কোন অবৈধ কাজের জন্য যেমন, মদ কিংবা নাজায়েয প্রথা অনুষ্ঠান ইত্যাদির জন্য ব্যয় না করে।
সপ্তম খাতঃ   আল্লাহর পথে সম্বলহীন মুজাহিদের যুদ্ধাস্ত্র/সরঞ্জাম উপকরণ সংগ্রহ এবং নিঃস্ব ও অসহায় গরীব দ্বীনি শিক্ষারত শিক্ষার্থীকে এ খাত থেকে যাকাত প্রদান করা যাবে।
.
.
আলোচক: হযরত মাও মীর মনির হোসেন
খতীব, হোসাইনিয়া জামে মসজিদ, লক্ষীপুর।

শেয়ার করুন